সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারী

সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীর পশ্চাৎপদতার ইতিহাস অতি প্রাচীন। রাষ্ট্রীয়, সরকারী এমনকি পারিবারিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় এখনও বাংলাদেশের নারীরা পিছিয়ে আছেন। তবে ইদানিংকালে নারীরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় এগিয়ে আসছেন। নারীদের ক্ষমতায়িত করার জন্য সরকারও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। নারীরা স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন এবং সফলতাও লাভ করছেন। বিকশিত নারী নেটওয়ার্কের নেত্রীরাও এক্ষেত্রে লক্ষ্যণীয়ভাবে এগিয়ে আসছেন।

২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সংরক্ষিত আসনে নির্বাচনে প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ২০৫ জন তার মধ্যে ১১৫ জন নির্বাচনে বিজয়ী লাভ করেন। ঢাকা-০৬,ময়মনসিংহ-০৪, খুলনা-২৬, ঝিনাইদহ-০৬, বরিশাল-১২,সিলেট-২৫, রংপুর-০৭, রাজশাহী-২৪, কুমিল্লা-০৩, চট্রগ্রাম-০২ সারাদেশ থেকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন-২০১৬, সংরক্ষিত মহিলা আসনে ১১৫জন বিজয়ী লাভ করেছেন।

২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকারের উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সংরক্ষিত আসন নির্বাচনে বিকশিত নারী নেটওয়ার্কের ৮৫ জন নারীনেত্রী উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সংরক্ষিত আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং তাদের মধ্যে ৪৬ জন জয়যুক্ত হন।
নারীনেত্রীরা বিভিন্ন সময় স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করেছে। ২০১৪-২০১৫ সালে ৫৪ জন নারীনেত্রী গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার প্রদত্ত জয়িতা পুরস্কার লাভ করেছেন।

২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিকশিত নারী নেটওয়ার্কের ৭৮ জন নারীনেত্রী উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং তাদের মধ্যে ৩৮ জন জয়যুক্ত হন। উপজেলা চেয়ারম্যান পদে একজন নারীনেত্রী বিজয়ী হয়েছেন।

২০১২-২০১৩ সালে সিটি কপোর্রেশন নির্বাচনে বিকশিত নারী নেটওয়ার্কে-এর ১৫ জন নারীনেত্রী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এদের মধ্যে কমিশনার পদে একজন এ কাউন্সিলর পদে ছয়জন জয়লাভ করেন।
এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দরের স্থানীয় কমিটি, স্কুল কমিটি এবং বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক কমিটিতে ২,৫৭০ নারীনেত্রীর অবিগম্যতা তৈরি হয়েছে।

২০১০ সালে স্থনীয় সরকারের ইউনিয়ন পরিষদ ও সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিকশিত নারী নেটওয়ার্কের ২১২ জন নারীনেত্রী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এদের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ২ জন ও সদস্য পদে ২১০ জন, চেয়ারম্যান ১ জন ও সদস্য পদে ১০২ জন জয়যুক্ত হন। এছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় কমিটি, স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটি এবং বিভিন্ন সামাজিক-সাংসকৃতিক কমিটিতে ২৩৫০ নারী নেত্রীর অভিগম্যতা তৈরি হয়েছে।

২০০৯ সালে অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিকশিত নারী নেটওয়ার্কের ৪৫ জন নারীনেত্রী ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং তাদের মধ্যে ১৮ জন জয়যুক্ত হন।

Advertisements