বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৩ (খসড়া)

১।    সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন।- (১) এই আইন বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৩ নামে অভিহিত হইবে।
(২) এই আইন সমগ্র বাংলাদেশে কার্যকর হইবে এবং বাংলাদেশের সকল নাগরিক- তাহারা যেখানেই অবস্থান করুক না কেন তাহাদের সকলের উপর প্রযোজ্য হইবে।
(৩) এই আইন অবিলম্বে কার্যকর হইবে।
২।    সংজ্ঞা।-বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী কিছু না থাকিলে, এই আইনে-
(ক)    “শিশু” (Child) অর্থ অনুর্ধ্ব আঠার বৎসরের কম বয়সী কোন ব্যক্তি;
(খ)    “নাবালক” (Minor) অর্থ পুরুষ হইলে একুশ বৎসরের কম এবং নারী হইলে আঠার বৎসরের কম বয়সী কোন ব্যক্তি।
(গ)    “বাল্যবিবাহ” অর্থ সেই বিবাহ যাহাতে সম্পর্ক  পড়্গদ্বয়ের যে কোন একজন নাবালক।
(ঘ)    “শিশু বিবাহ” (Child marriage) অর্থ সেই বিবাহ যাহাতে সম্পর্ক স্থাপনকারী পক্ষদয়ের যে কোন একজন শিশু।
(ঙ)    “সম্পর্ক স্থাপনকারী পক্ষ” (Contracting party) অর্থ যেই পড়্গদ্বয়ের মধ্যে বিবাহ অনুষ্ঠিত হইয়াছে বা হইতে যাইতেছে এমন যে কোন এক পড়্গ।
(চ)    “সিটি কর্পোরেশন” বলিতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন অধ্যাদেশ, ১৯৮২ (১৯৮২ সালের ৩৫ নং অধ্যাদেশ) সনের ঢাকা সিটি কর্পোরেশন অধ্যাদেশ, ১৯৮৩ (১৯৮৩ সনের ৪০ নং অধ্যাদেশ) অথবা খুলনা সিটি কর্পোরেশন অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ (১৯৮৪ সনের ৭২ নং অধ্যাদেশ) এর আওতাধীনে গঠিত সিটি কর্পোরেশনকে বুঝাইবে।
(ছ)    “পৌরসভা” বলিতে পৌরসভা অধ্যাদেশ, ১৯৭৭ (১৯৭৭ সনের ২৬ নং অধ্যাদেশ) এর অধীন গঠিত পৌরসভাকে বুঝাইবে।
(জ)    “ইউনিয়ন পরিষদ” বলিতে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) অধ্যাদেশ, ১৯৮৩ (১৯৮৩ সনের ৫১ নং অধ্যাদেশ) অধীনে গঠিত ইউনিয়ন পরিষদকে বুঝাইবে ।
(ঝ)    “বিবাহ পরিচালনাকারী” বলিতে নিকাহ রেজিস্ট্রার বা ধর্মীয় নেতা অন্য কোন ব্যক্তি যিনি বিবাহ অনুষ্ঠান/পরিচালনা করেন।
৩।    শিশু বিবাহকারীর শাস্তি।- একুশ বৎসরের অধিক বয়স্ক কোন পুরুষ বা আঠার বৎসরের অধিক বয়স্ক নারী কোন শিশু বা নাবালকের সহিত বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপনের চুক্তি করিলে সেই ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদন্ড বা পঞ্চাশ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডণীয় হইবে।
৪।    বাল্যবিবাহ অনুষ্ঠান বা পরিচালনা করিবার শাস্তি।- কোন ব্যক্তি বাল্যবিবাহ অনুষ্ঠান বা পরিচালনা করিলে সেই ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদন্ড বা পঞ্চাশ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডণীয় হইবে, যদি না তিনি প্রমাণ করিতে পারেন যে, বিবাহটি বাল্যবিবাহ ছিল না বলিয়া বিশ্বাস করিবার মত যথেষ্ট যুক্তি ছিল।
৫।    বাল্যবিবাহ অনুষ্ঠানের সহিত সম্পর্কিত পিতামাতা বা অভিভাবকের শাস্তি।-(১) যেই ক্ষেত্রে কোন নাবালক কোন বাল্যবিবাহের চুক্তি করে এবং পিতামাতা অথবা আইনানুগ বা বেআইনী যে কোন এখতিয়ারেই হউক না কেন, কোন ব্যক্তি উক্ত নাবালকের উপর কর্তৃত্ব সম্পন্ন হইয়া উক্ত বিবাহ কার্য সম্পন্ন করিবার ক্ষেত্রে কোন কাজ করিলে বা সম্পন্ন করিবার অনুমতি প্রদান করিলে বা স্বীয় অবহেলার জন্য বিবাহটি বন্ধ করিতে ব্যর্থ হইলে, সেই ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদন্ড বা পঞ্চাশ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডণীয় হইবে।
(২) যেই ক্ষেত্রে কোন নাবালক বাল্যবিবাহের চুক্তিবদ্ধ হয় সেই ক্ষেত্রে বিপরীত বিষয় প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত, উক্ত নাবালকের উপর কর্তৃত্ব সম্পন্ন ব্যক্তি স্বীয় অবহেলায় বিবাহটি বন্ধ করিতে ব্যর্থ হইয়াছেন বলিয়া বিবেচিত হইবে।
৬।    নিকাহ রেজিস্ট্রার-এর নিবন্ধন বাতিল।- স্বেচ্ছায় বাল্যবিবাহ অনুষ্ঠানে/আয়োজনে সহায়তাকারী নিকাহ রেজিস্ট্রারের নিবন্ধন বাতিল করা হইবে,যদি না তিনি প্রমাণ করিতে পারেন যে, বিবাহটি বাল্যবিবাহ ছিল না বলিয়া বিশ্বাস করিবার মত যথেষ্ট যুক্তি ছিল।
৭।    বিবাহের বয়স প্রমাণের ক্ষেত্রে দাখিলকৃত প্রমাণ।- বিবাহের সময় কন্যা ও বরের বয়স প্রমাণের জন্য বিবাহ অনুষ্ঠান বা পরিচালনাকারীর নিকট সিটি করপোরেশন/পৌরসভা/ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক ইস্যুকৃত জন্ম নিবন্ধন বা জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট বা এসএসসি/সমমানের পরীক্ষার সনদ দাখিল করিতে হইবে। উক্তরূপ প্রমাণের ভিত্তিতে নিশ্চিত হইয়া বিবাহ অনুষ্ঠান বা পরিচালনাকারী বিবাহ অনুষ্ঠান/ পরিচালনা করিবেন।
৮।    বাল্যবিবাহ অনুষ্ঠানের সংবাদ।- (১) কোন ব্যক্তি বা জনপ্রতিনিধি বা সরকারি/বেসরকারী কোন সংস্থার কর্মকর্তা/কর্মচারী বাল্যবিবাহ অনুষ্ঠানের কোন সংবাদ অবহিত হইলে তিনি তৎক্ষণাৎ তাহা নিকটবর্তী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা বা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধি বা নিকটবর্তী আদালতকে বা হেল্পলাইন সেন্টার (১০৯২১)-এ লিখিত অথবা মৌখিকভাবে অবহিত করিবেন।
(২) উপধারা (১) অনুসারে প্রাপ্ত সংবাদ অথবা কোন প্রিন্ট বা ইলেকট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে প্রাপ্ত সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা বা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধি অথবা আদালত উক্ত বিবাহ বন্ধ অথবা আইনানুগ অন্য কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।
৯।    এখতিয়ার।- ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮ (১৮৯৮ সালের ৫ নং আইন) এর ১৯০ ধারায় যাহা কিছুই থাকুক না কেন, প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট ব্যতীত অন্য কোন আদালত এই আইনের অধীন কোন অপরাধ আমলে গ্রহণ করিতে বা উহার বিচার করিতে পারিবে না।
১০।    অপরাধ আমলে গ্রহণের মেয়াদ।- কোন আদালত এই আইন অনুযায়ী অপরাধ সংঘটিত হওয়ার এক বৎসর পর কোন অপরাধ আমলে গ্রহণ করিতে পারিবে না।
১১।    সরেজমিনে তদন্ত।- কোন আদালত এই আইন অনুসারে কোন অভিযোগ বা কার্যধারা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ঘটনার সত্যতা নিরূপনের নিমিত্ত সরেজমিনে স্বয়ং তদন্ত করিতে পারিবেন অথবা অধস্তন কোন সরকারি কর্মকর্তা বা স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধি বা অন্য কোন ব্যক্তিকে উক্তরূপ তদন্ত করিবার নির্দেশ দিতে পারিবেন এবং উক্তরূপ তদন্ত কাজ আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময় সীমার মধ্যে সম্পন্ন করিতে হইবে।
১২।    আমলযোগ্যতা, জামিনযোগ্যতা এবং আপোষযোগ্যতা।- এই আইনের অধীন সংঘটিত কোন অপরাধ আমলযোগ্য, জামিনযোগ্য এবং আপোষযোগ্য হইবে।
১৩।    বিচারের কার্যপদ্ধতি।- (১) এই আইনের অধীন কোন অপরাধের বিচার বা কার্যধারা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ফৌজদারী কার্যর্বিধির বিধানাবলী প্রযোজ্য হইবে।
(২) এই আইনের অধীন অপরাধের বিচার বা কার্যধারা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮ (১৮৯৮ সালের ৫ নং আইন) এর Chapter XXII অনুযায়ী সংক্ষিপ্ত বিচার পদ্ধতি প্রযোজ্য হইবে।
১৪।    আইন লংঘন করিয়া বিবাহ অনুষ্ঠানে নিষেধাজ্ঞা জারির ক্ষমতা।- (১) আদালতে দায়েরকৃত অভিযোগ বা অন্য কোন উপায়ে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আদালত যদি এই মর্মে নিশ্চিত হন যে, এই আইনের লংঘন ঘটাইয়া কোন বিবাহের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হইয়াছে বা বিবাহ অনুষ্ঠান অত্যাসন্ন তাহা হইলে আদালত এই আইনের ৩, ৪, ৫ ও ৬ ধারায় উল্লিখিত যে কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে উক্ত বিবাহ অনুষ্ঠানে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করিতে পারিবেন।
(২) আদালত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নোটিশ প্রদান করতঃ কারণ দর্শানোর সুযোগ প্রদান না করিয়া উপাধারা (১) অনুযায়ী প্রদত্ত যে কোন আদেশ প্রত্যাহার বা পরিবর্তন করিতে পারিবেন না।
(৩) আদালত স্বেচ্ছায় বা সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির আবেদনের ভিত্তিতে উপধারা (১) অনুযায়ী প্রদত্ত যে কোন আদেশ প্রত্যাহার বা পরিবর্তন করিতে পারিবেন।
(৪) যখন কোন আদালত এইরূপ কোন আবেদন প্রাপ্ত হন তখন আদালত আবেদনকারীকে ব্যক্তিগতভাবে বা আইনজীবীর মাধ্যমে তাহার নিকট হাজির হইবার সুযোগ প্রদান করিবেন এবং আদালত যদি আবেদন সম্পূর্ণ বা আংশিক নাকচ করেন, তাহা হইলে তিনি উহার কারণ লিপিবদ্ধ করিবেন।
(৫) উপধারা (১) মোতাবেক কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারী হইয়াছে এইরূপ বিষয় জানা সত্ত্বেও সেই ব্যক্তি উক্ত নিষেধাজ্ঞা অমান্য করিলে ছয় মাস পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদন্ড বা দশ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডণীয় হইবে।
১৫।     বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে জনমত গঠন।-বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকার প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াসহ অন্যান্য মাধ্যমে প্রচারণার জন্য বিধি দ্বারা নিরূপিত পদ্ধতিতে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করিবে।
১৬।     বাল্যবিবাহ নিরুৎসাহিতকরণ।- বাল্যবিবাহ নিরুৎসাহিতকরণ করিবার লক্ষ্যে শিশু বা অভিভাবককে সরকারের চলমান সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনি কার্যক্রমে সম্পৃক্তকরণ বা অন্য কোন প্রণোদনা প্রদানের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হইবে।
১৭।     বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্রশাসনিক উদ্যোগ।- বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ বা প্রতিকারের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসক বা  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বা  সরকার কর্তৃক দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্য কোন কর্মকর্তা বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে বা প্রতিকারের লক্ষ্যে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করিতে পারিবে।
১৮।     বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে বিকল্প বিরোধ পদ্ধতি।- সিটি কর্পোরেশন/পৌরসভা/ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিগণ স্ব-স্ব এলাকায় বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে বিবাদমান পক্ষসমূহের মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে যথাসম্ভব বিকল্প বিরোধ পদ্ধতি (Alternate Dispute Resolution) অনুসরণ করিবে।
১৯।    কতিপয় ক্ষেত্রে বিবাহ বাতিল।- আদালত যথাযথ শুনানী অন্তে সন্তুষ্ট হইয়া নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে বিবাহ বাতিলের আদেশ দিতে পারিবেনঃ
(ক) বিবাহটি বাল্যবিবাহ এবং উক্ত বিবাহ অনুষ্ঠানের বিষয়ে আদালতের নিষেধাজ্ঞা ছিল;
(খ) জালিয়াতি, প্রতারণা বা জোরপূর্বক বা মানব পাচারের মাধ্যমে ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিবাহ অনুষ্ঠিত হইলে; এবং
(গ) জোরপূর্বক ধর্ষণ এবং ধর্ষণ পরবর্তীতে ধর্ষকের সহিত বিবাহে বাধ্য করা হইলে।
২০।    বাল্যবিবাহের ফলে জন্মগ্রহণকারী শিশুর নিরাপত্তা।- এই আইনের ১৯ ধারার অধীনে বাতিলকৃত বাল্যবিবাহের ফলে জন্মগ্রহণকারী শিশুর নিরাপত্তা/হেফাজত/ভরণপোষনের দায়িত্ব যথাযথ আদালত কর্তৃক নির্ধারণ করা হইবে।
২১।    পাঠ্য সূচীতে অন্তর্ভুক্তি।- বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে শিক্ষাথী ও সমাজকে সচেতন করিবার লক্ষ্যে সরকার সকল স্তরের পাঠ্যসূচীতে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করিবার উদ্যোগ গ্রহণ করিবে।
২২।    বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কমিটি গঠন।- বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের নিমিত্ত এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি দ্বারা সরকার সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, বেসরকারী সংস্থার কর্মকর্তা এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধি সমন্বয়ে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কমিটি গঠন করিতে পারিবে। উক্ত কমিটির কার্যাবলী বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
২৩।     বিধি প্রণয়ন।- সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে নিম্নলিখিত বিষয়সহ সংশ্লিস্ট অন্যান্য বিষয়ে বিধি প্রণয়ন করিত পারিবেঃ
(ক) বাল্যবিবাহের সামাজিক ও আর্থিক ক্ষতি সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করা;
(খ) বাল্যবিবাহ নিরোধ সম্পর্কে জাতীয় পর্যায়ে এবং জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিটি গঠন;
(গ) বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ সম্পর্কিত বিভিন্ন পর্যায়ে প্রতিবেদন প্রেরণ;
(ঘ) বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের জন্য ব্যক্তি পর্যায়ে কাউন্সেলিং এর ব্যবস্থা; এবং
(ঙ) সরকার কর্তৃক গঠিত কমিটি বা সরকারি/বেসরকারী ব্যক্তিবর্গ/জনপ্রতিনিধিকে বাল্যবিবাহ নিরোধের জন্য দায়িত্ব অর্পণ।
২৪।     রহিতকরণ ও হেফাজত।-(১) এই আইন বলবৎ হইবার সঙ্গে সঙ্গে The Child Marriage Restraint Act, 1929 ( Act No. XIX of 1929) অতঃপর বিলুপ্ত আইন  বলিয়া উল্লিখিত, রহিত হইবে।
(২) উপরোক্ত রহিত হওয়া সত্ত্বেও রহিত আইনের অধীনে কৃত কোন কার্য বা কার্যধারা অথবা প্রণীত সকল বিধি, প্রবিধান, আদেশ, জারিকৃত বিজ্ঞপ্তি বা নোটিশ বা অনুমোদিত সকল কার্যক্রম এই আইনের অধীন কৃত, প্রণীত, প্রদত্ত, জারিকৃত বা অনুমোদিত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।
২৫।    বিচারাধীন মামলা সম্পর্কে বিধান।- এই আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন এই আইন বলবৎ হওয়ার অব্যবহিত পূর্বে কোন আদালতে বিচারাধীন ৩, ৪ ও ৫ ধারায় বর্ণিত অপরাধের সহিত সম্পর্কিত মামলা বা উহার আপীল বা অন্যকোন আইনগত কার্যধারা উক্ত একই আদালতে এমনভাবে চলিতে থাকিবে যেন এই আইন প্রণীত হয় নাই।