যৌতুক নিরোধ আইন ১৯৮০

সাধারণ অর্থে যৌতুক বলতে পাত্রপক্ষ কর্তৃক কনে পক্ষের কাছে কৃত দাবী-দাওয়া আদায়কে বুঝায় অর্থ্যাৎ পাত্রপক্ষ কনে পক্ষ থেকে দাবি জানিয়ে যেসমস্ত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি আদায় করে তাই যৌতুক।

যৌতুক নিরোধ আইন, ১৯৮০

সংজ্ঞা: বিষয়বস্তু প্রসঙ্গের পরিপন্থী না হইলে এই আইনে “যৌতুক” বলিতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে, প্রদত্ত যে কোন সম্পত্তি বা “মূল্যবান জামানত”কে বুঝাইবে, যাহা-

ক) বিবাহের একপক্ষ অপরপক্ষে অথবা

খ) বিবাহের কোন একপক্ষের পিতামাতা বা অন্য কোন ব্যক্তি কর্তৃক বিবাহের যে কোন পক্ষকেবা অন্য কোন ব্যক্তিকে বিবাহ মজলিশে অথবা বিবাহের পূর্বে বা পরে, বিবাহের পণরূপে প্রদান করে বা প্রদান করিতে অঙ্গীকারবদ্ধ হয় : তবে, যৌতুক বলিতে মুসলিম ব্যক্তগত আইন (শরিয়ত) মোতাবেক ব্যবস্থিত দেনমোহর বা মোহরানা বুঝাইবে না।

ব্যাখ্যা : ১) সন্দেহ নিরসনকল্পে এতদ্বারা জ্ঞাত হইল যে, বিবাহের সহিত সরাসরি সম্পর্কিত নহেন এমন কোন ব্যক্তিকর্তৃক স্বামী বাস্ত্রী, যে কোন পক্ষকে অনধিক পাঁচশত টাকা মূল্যমানের কোন জিনিস, বিবাহের পণ হিসাবে নহে, উপঢৌকনরূপে প্রদান করিলে, অনুরূপ উপঢৌকন এই ধারা মতে যৌতুক হিসাবে গণ্য হইবে না।

ব্যাখ্যা : ২) দন্ডবিধির (ইং ১৯৮০ সালের ৪৫ নম্বর আইনের) ৩০ ধারায় “মূল্যবান জামানত” যে অর্থে ব্যবহৃত হইয়াছে, এই আইনেও ঐ শব্দাবলী একই অর্থ বুঝাবে।

যৌতুক প্রদান বা গ্রহণের দন্ড : এই আইন বলবত হওয়ার পর, কোন ব্যক্তি যৌতুক প্রদান বা গ্রহণ করিলে যৌতুক প্রদান বা গ্রহণে সহায়তা করিলে, সে সর্বাধিক এক বৎসর মেয়াদের কারাদন্ড বা সর্বাধিক পাচ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় বিধ প্রকারে দন্ডনীয় হইবে।

যৌতুক দাবী করার দন্ড : এই আইন কার্যকরী হওয়ার পর কোন ব্যক্তি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কনে বা বরের পিতামাতা বা অভিভাবকের নিকট যৌতুক দাবী করিলে সে সর্বাধিক এক বৎসরের কারাদন্ড বা পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় বিধ প্রকারে দন্ডনীয় হইবে।

উদাহরণ

নাজুর সাথে মিলন –এর বিয়ের সময় মিলন নাজুর বাবার কাছে নগদ ৫০ হাজার টাকা দাবী করে। নাজুর বাবা বিয়ের দিন নগদ ৩০ হাজার টাকা মিলনের হাতে তুলে দেয় যা কি না তার বসতবাড়ী বন্দক রেখে সে জোগাড় করেছে। আর বাকী ২০ হাজার টাকা পরে দিবে বলে জানায়। কিন্তু সংসারের অভাব অনটনের কারণে নাজুর বাবা আর টাকা দিতে পারেনি। ফলে মিলন তার স্ত্রীকে বাপের বাড়ী পাঠিয়ে দেয় এবং বলে টাকা আনলে ফিরে আসবে নতুবা নয়। এখানে মিলন ও নাজুর বাবা দুজনেই সমান অপরাধি। মিলন যৌতুক নিরোধ আইন এর ৩নং ও ৪নং অনুযায়ী ও নাজুর বাবা ৩নং ধারা অনুযায়ী দন্ড ভোগ করবে। যৌতুক দাবী করা, গ্রহণ করা এবং প্রদান করা এমনকি এ সমস্ত কাজে সহায়তা করার শাস্তি হচ্ছে সর্বাধিক এক বৎসর মেয়াদের কারাদন্ড বা সর্বাধিক পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় প্রকার দন্ড।

যৌতুক এর জন্য অত্যাচার :

নারীর প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি, সমাজে সচেতনতার অভাব, মূল্যবোধের অবক্ষয়, দারিদ্র, বেকারত্ব শিক্ষার অভাব প্রভৃতি যৌতুক-এর দাবীর মূল কারণ। আর দাবী পুরণ না হলে হচ্ছে অসহায় নারীদের উপর অত্যাচার, যার মাত্রা মৃত্যু পর্যন্ত গড়ায়।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন, ২০০৩

“(ঞ)” যৌতুক অর্থ-

(অ) কোন বিবাহের বর বা বরের পিতা বা মাতা বা প্রত্যক্ষভাবে বিবাহের সহিত জড়িত বর পক্ষের অন্য কোন ব্যক্তি কর্তৃক উক্ত বিবাহের সময় বা তৎপূর্বে বা বৈবকাহিক সম্পর্ক বিদ্যমান থাকা কালে, বিবাহ স্থির থাকার শর্তে, বিবাহের পণ হিসাবে কনে পক্ষের নিকট দাবীকৃত অর্থ, সামগ্রী বা অন্যবিধ সম্পদ, অথবা

(আ) কোন বিবাহের কনে পক্ষ কর্তৃক বিবাহের বর বা বরেরর পিতা বা মাতা বা প্রত্যক্ষভাবে বিবাহের সহিত জড়িত বর পক্ষের অন্য কোন ব্যক্তিকে উক্ত বিবাহের সময় বা তৎপূর্বে বা ব্রৈবাহিক সম্পর্ক বিদ্যমান থাকাকালে, বিবাহ স্থির থাকার শর্তে, বিবাহের পণ হিসাবে প্রদত্ত বা প্রদানে সম্মত অর্থ, সামগ্রী বা অন্যবিধ সম্পদ;

যৌতুকের জন্য মৃত্যু ঘটানো, ইত্যাদির শাস্তি – যদি কোন নারীর স্বামী অথবা স্বামীর পিতা, মাতা, অভিভাবক, আত্মীয় বা স্বামীর পক্ষের অন্য কোন ব্যক্তি যৌতুকের জন্য উক্ত নারীর মৃত্যু ঘটান বা মৃত্যু ঘটানোর চেষ্টা করেন, কিংবা উক্ত নারীকে মারাত্মক জখম করেন, তাহা হইলে উক্ত স্বামী, স্বামীর পিতা, মাতা, অভিভাবক, আত্মীয় বা ব্যক্তি-

(ক) মৃত্যু ঘটানোর জন্য মৃত্যুদন্ড বা মৃত্যু ঘটানোর চেষ্টার জন্য যাবজ্জীবন কারাদন্ডে দন্ডনীয় হইবেন এবং উক্ত দন্ডের অতিরিক্ত অর্থদন্ডেও দন্ডনীয় হইবেন;

(খ) মারাত্মক জখম করার জন্য যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ডে অথবা অনধিক বার বৎসর কিন্তু অন্যূন পাঁচ বৎসর সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডনীয় হইবেন এবং উক্ত দন্ডের অতিরিক্ত অর্থদন্ডেও দন্ডনীয় হইবেন;

(গ) সাধারণ জখম করার জন্য অনধিক তিন বৎসর কিন্তু অন্যূন এক বৎসর সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডনীয় হইবেন এবং উক্ত দন্ডের অতিরিক্ত অর্থদন্ডেও দন্ডনীয় হইবেন;