সিদ্ধান্তগ্রহণ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের নারী

নারী ও পুরুষের মধ্যে বৈষম্যমূলক অবস্থান বিরাজ করলে তথা সিদ্ধান্তগ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হলে সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। ন্যায়বিচারের অভাবে যেমন অধিকার রক্ষা করা যায় না, তেমনি ‘অংশীদারিত্ব’ ছাড়া ‘অংশগ্রহণ’ কার্যকর কিছু নয়। অংশীদারিত্ব হলো সাম্য বা ন্যয়বিচার।
আমাদের সমাজে নারীদের অধঃস্তন অবস্থানের কারণ ও ফলাফল উভয়ই হচ্ছে সিদ্ধান্তগ্রহণ প্রক্রিয়ায় তাদের নগণ্য অংশীদারিত্ব। যার ফলে আমাদের দেশে এখনো পরিপূর্ণভাবে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, দারিদ্র্য বিমোচন এবং ন্যয়বিচারভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হচ্ছেনা।

সিদ্ধান্তগ্রহণ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের নারীদের অবস্থানগত সংখ্যাতাত্বিক চিত্র:
–    দশম জাতীয় সংসদে নারী প্রতিনিধিত্বের হার ১৯.৭১ শতাংশ
–    ৪৮ সদস্য বিশিষ্ট মন্ত্রিসভায় নারী মন্ত্রীর সংখ্যা ২ জন
–    দশম সংসদে নারীদের মধ্যে একজন সংসদ উপনেতা এবং পাঁচজন সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি রয়েছেন
তথ্যসূত্র: parliament.gov.bd
–    ২০১১ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ২২ জন নারী চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হন
–    ২০০৯ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ৪৮০টি উপজেলায় ৪৮০ জন নারী ভাইস চেয়ারপার্সন সংরক্ষিত আসনে নির্বাচিত হয়েছেন; এছাড়া চেয়ারম্যান পদে ৩ জন নারী নির্বাচনে বিজয়ী হন
–    ২০১১ সালের পৌরসভা নির্বাচনে ১ জন নারী মেয়র নির্বাচিত এবং ২১২ টি পৌরসভায় ৬৩৬ জন নারী সংরক্ষিত আসনে নির্বাচিত হন
–    ২০১১ সালে নারায়রগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রথম নির্বাচিত নারী মেয়র হন ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী
তথ্যসূত্র: ‘এগিয়ে চলছে নারী, এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ’-স্টেপস টুয়ার্ডস ডেভেলপমেন্ট এর প্রকাশিত প্রতিবেদন ২০১৩
২০১৩ সালে জাতীয় সংসদে প্রথম নির্বাচিত নারী স্পিকার হন ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী  তথ্যসূত্র: দৈনিক ইনকিলাব ১মে ২০১৩