বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে সীমান্তে করোনা রোধে সোচ্ছার নারী নেত্রী কুলসুমা ও কলিমা

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি উপজেলাতে ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণে অবস্থিত নাফ নদীর তীরবর্তী টেকনাফ উপজেলার ঝুঁকি অত্যধিক। টেকনাফ উপজেলা বর্তমানে রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠী মিলে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় পরিণত হয়েছে। এ উপজেলার মানুষকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষার লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় সচেতন স্বেচ্ছাব্রতী মানুষের বিভিন্ন উদ্যোগ এলাকার মানুষের মাঝে সাড়া ফেলেছে। তেমনই একজন স্বেচ্ছাব্রতী কুলসুমা বেগম।

টেকনাফ পৌরসভার কল্যাণপাড়া এলাকায় বসবাস করেন কুলসুমা বেগম। তিনি দি হাঙ্গার প্রজেক্টের বিকশিত নারী নেটওয়ার্কের অন্যতম সদস্য এবং নাফ নারী উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি। বিকশিত নারীনেটওয়ার্কের আরেক সহযোদ্ধা কলিমা বেগমকে সাথে নিয়ে তিনি করোনাভাইরাস প্রতিরোধে মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করছেন। সচেতনতামূলক কাজের মধ্যে বার বার হাত ধোয়া, হাত ধোয়ার সঠিক নিয়ম অনুশীলন, মাস্ক পড়া, স্বাস্থ্যবিধি ও শারীরিক দূরত্বের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে প্রচারাভিযান চালাচ্ছেন ।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের সেই শুরু অর্থাৎ ৮ মার্চ থেকে ১০ মে ২০২০ পর্যন্ত নিজের এলাকা পুরাতন কল্যাণপাড়ায় ১০০০টি পরিবারে লিফলেট, ৬০০ সাবান ও ৬০০ টি মাস্ক বিতরণ করেন।

এপ্রিলের ১৫ তারিখের পর নিজেদের সংগঠন ‘নাফ নারী উন্নয়ন সংস্থার’ সদস্যদের আর্থিক সহযোগিতায় ১৫০টি হতদরিদ্র পরিবার ও পৌরসভার মহিলা কাউন্সিলরের সহায়তায় ৭৫০টি হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী (জনপ্রতি ৫ কেজি চাল, ১ কেজি ডাল, ১লিটার তেল ও ১ কেজি পিয়াঁজ) বিতরণ করেন। মানবতার হাত বাড়িয়ে তিনি নিজ এলাকার পাশাপাশি টেকনাফ পৌরসভার অন্যান্য এলাকাতেও ছুটে চলেছেন। তাদের এমন মানবিক সহায়তায় টেকনাফ পৌরবাসী যেমন উপকৃত হচ্ছে, তেমনি এই নারীনেত্রীদের জন্য তারা গর্বিতও বটে।

নারীনেত্রী কুলসুমা বেগম প্রত্যাশা করেন যে, বাংলাদেশের সকল সামর্থ্যবান মানুষ করোনার এই সময়ে নিজেদের অবস্থান থেকে এগিয়ে আসবে, অসহায় ও নিজেদের গ্রাম রক্ষার প্রত্যয় নিয়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.