মানুষের সেবায় একজন স্বেচ্ছাব্রতী হিসেবে সমাজের অগ্রণী ভূমিকা রাখছেন নারীনেত্রী মাফরোজা বেগম।

নওগাঁ জেলার পত্নীতলা উপজেলার ঘোষনগর ইউনিয়নের কমলাবাড়ী গ্রামের দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশ এর বিকশিত নারী নেটওয়ার্কের নারীনেত্রী, ঘোষনগর ইউনিয়নের ৭,৮,৯ সংরক্ষিত আসনের সদস্য জনাব  মাফরোজা বেগম।

তিনি স্থানীয় সরকার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হিসেবে ঘোষনগর ইউনিয়নের ৩টি ওর্য়াডের যে সকল গ্রাম আছে, সকল গ্রামে করোনাভাইরাস বিষয়ে সচেতনতামূলক আলোচনা চালাচ্ছেন। মাস্ক ব্যবহার করা, ঘন ঘন সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, হাত ধোয়ার পদ্ধতি অনুশীলন, ২০০টি লিফলেট বিতরন, গ্রামের গুরুত্বপূর্ণস্থানে জীবানুনাশক ঔষধ ছিটানো, বাড়ীর আস-পাশ পরিস্কার-পরিছন্নতা রাখা, সামাজিক শারীরিক দুরত্ব বজায় রাখা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য  সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক প্রচারাভিযান পরিচালনা অব্যাহত।

তাঁর নিজস্ব অর্থায়নে ৩৬০টি মাস্ক, ৩৬০টি সাবান, ‌এবং ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ৫০টি মাস্ক, ৫০টি সাবান কর্মহীন অসহায় মানুষের মাঝে বিতরণ করেন। ঘোষনগর ইউনিয়নের কমলাবাড়ী গ্রামসহ ৫টি গ্রামের গুরুত্বপূর্ণস্থানে জীবানুনাশক ঔষধ ছিটানো পরিচালনা করেন।

সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কাজের পাশাপাশি তিনি অনুধাবন করেন যে, এই মহামারির কারণে খাদ্যের ঘাটতি দেখা দিবে, যার ফলে পুষ্টিহীনতা বাড়বে। এই চিন্তা থেকে একটি পরিকল্পনা করেন যে, নিজেদের এবং আশে-পাশে প্রতিবেশীদের বাড়ির আঙ্গিনায় বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করবেন। কমলাবাড়ী গ্রামের ৩০টি পরিবারে বিএডিসি থেকে সবজির বীজ সংগ্রহ করে বিতরণ করেন।

কোভিড’১৯ মহামারিতে বাংলাদেশে সরকার কর্তৃক ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্দকৃত ত্রাণ নির্দিষ্ট জনগনের মাঝে বিতরণ করেন। তাছাড়া নিজ উদ্যোগে বিশেষ চাহিদায় ভাইরাসজনিত ‘লকডাউনে’র কারণে কমলাবাড়ী গ্রামের হতদরিদ্র ও কর্মহীন আরো ১২০টি পরিবারে এলাকার বিত্তবানদের আর্থিক সহযোগিতায় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন (পরিবার প্রতি চাল-৪ কেজি, ডাল-২/১কেজি, তৈল-১ লিটার ও ১টি সাবান)।

তিনি বিশেষ গুরুত্বসহকারে অসুস্থ্য, গর্ভবতী মা ও শিশুদের সেবাগ্রহণে সহযোগীতা করেছেন এবং সরকারী কমিউনিটি সেন্টার থেকে ঔষুধ  সংগ্রহ করে অসুস্থ ও গর্ভবতী মায়ের সরবরাহ নিশ্চিত করেন। তাছাড়া গর্ভবতী মায়ের পুষ্টিযুক্ত খাবার গ্রহণের পরামর্শ প্রদান করেন।

তাঁর কার্যক্রমে এলাকাবাসী মুগ্ধ ও অনুপ্রাণিত। তিনি বিশ্বাস করেন করোনাকে জয় করতে হল বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সক্রিয় সচেতন হলে করোনা ভাইরাস মুক্ত সহনশীল গ্রাম ও শহর করা সম্ভব।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.