জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি ১৯৯৭ এবং এর সংশোধনী

জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি ১৯৯৭ এবং এর সংশোধনী বাংলাদেশে ইতোপূর্বে বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনায় নারী উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচী ও কার্যক্রম গ্রহণ করা হলেও তা ছিল বিচ্ছিন্ন এবং সমন্বয়হীন৷ কিন্তু ১ঌঌ৫ সালে বেইজিং সম্মেলনে নারী উন্নয়ন কর্মপরিকল্পনায় নারী উন্নয়নের লক্ষ্যে যে ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করা হয়েছিল যা সংক্ষেপে পিএফএ (প্লাটফর্ম ফর একশন) নামে পরিচিত তার আলোকে প্রথম বারের মত একটি নারী উন্নয়ন নীতি ও কর্মপরিকল্পনা প্রনয়ন করা হয়েছে৷ যার প্রধান লক্ষ্য নির্যাতিত ও অবহেলিত এ দেশের বৃহত্তম নারী সমাজের ভাগ্য উন্নয়ন করা৷ বাংলাদেশের নারীসমাজের নারীর ক্ষমতায়নসহ বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে ব্যাপকভিত্তিক আন্দোলনের ফলেও নারী নীতিটি প্রণীত হয়৷ নারী সমাজ আশার আলো দেখে, কেননা এই নীতিমালা প্রণয়নের মধ্য দিয়ে নারীর প্রতি হাজার বছরের শোষণ ও বৈষম্য বিলোপ হবে, নারী সম-অধিকার লাভ করবে এইটিই ছিল সবার আশা৷ বাংলাদেশে প্রণীত নারী নীতিটি ১৯৯৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী সংস্থা NCWD (National Committee for Women Development) কর্তৃক অনুমোদিত হয় এবং ১৯৯৭ সালেই ৮ মার্চ বিশ্ব নারী দিবসে এ নীতিটি ঘোষিত হয়৷ নীতিটিতে বাংলাদেশের নারীদের সাংবিধানিক নিশ্চয়তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীর অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছিল৷ নারী উন্নয়ন নীতির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ ১৯৯৬ সালের ১২ জুন জাতীয় নির্বাচনে দেয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বর্তমান সরকার (তত্কালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার) দেশে প্রথম বারের মত নারী উন্নয়ন নীতি প্রদান করেছেন, যার প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে যুগ যুগ ধরে নির্যাতিত ও অবহেলিত এদেশের বৃহত্তর নারী সমাজের ভাগ্য উন্নয়ন করা৷ সংশোধনী ২০০৪: ১৯৯৬ সালের ১২ জুন জাতীয় নির্বাচনে দেয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বর্তমান সরকার দেশে প্রথম বারের মত নারী উন্নয়ন নীতি প্রদান করেছেন৷ নীচে এই নীতির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সমূহ দেওয়া হলো:
১.জাতীয় জীবনের সকল ক্ষেত্রে নারী পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠা করা
· রাষ্ট্রীয়, সামাজিক ও পারিবারিক জীবনের সকল ক্ষেত্রে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা;
· নারীর রাজনৈতিক, সামাজিক, প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা;
· নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করা;
· নারীকে শিক্ষিত ও দক্ষ মানবসম্পদ হিসাবে গড়ে তোলা;
· নারী সমাজকে দারিদ্র্যের অভিশাপ থেকে মুক্ত করা;
· নারী পুরুষের বিদ্যমান বৈষম্য নিরসন করা;
· সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিমন্ডলে নারীর অবদানের যথাযথ স্বীকৃতি প্রদান করা;
· নারী ও মেয়ে শিশুর প্রতি সকল প্রকার নির্যাতন দূর করা;
· নারী ও মেয়ে শিশুর প্রতি বৈষম্য দূর করা;
· রাজনীতি,প্রশাসন ও অন্যান্য কর্মক্ষেত্রে, আর্থ-সামাজিক কর্মকান্ড, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া এবং পারিবারিক জীবনের সর্বত্র নারী পুরুষের সমানাধিকার প্রতিষ্ঠা;
· নারীর স্বার্থের অনুকূল প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও আমদানী করা এবং নারীর স্বার্থ বিরোধী প্রযুক্তির ব্যবহার নিষিদ্ধ করা;
· নারীর সুস্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করার জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করা;
· নারীর জন্য উপযুক্ত আশ্রয় এবং গৃহায়ন ব্যবস্থায় নারীর অগ্রাধিকার নিশ্চিত কর;
· প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও সশস্ত্র সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্ত নারীর পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা;
· বিশেষ দুর্দশাগ্রস্ত নারীর চাহিদা পূরণের ব্যবস্থা করা;
· বিধবা,অভিভাবকহীন,স্বামী পরিত্যাক্তা,অবিবাহিত ও সন্তানহীন নারীর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা;
· গণ মাধ্যমে নারী ও মেয়ে শিশুর ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরাসহ জেন্ডার প্রেক্ষিত প্রতিফলিত করা; · মেধাবী ও প্রতিভাময়ী নারীর সৃজনশীল বিকাশে সহায়তা দেয়া;
· নারী উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সহায়ক সেবা প্রদান করা;
নারী উন্নয়ন নীতিমালার বিস্তারিত বর্ননা নীচে দেওয়া হলো :
·নারীর মানবাধিকার এবং মৌলিক স্বাধীনতার বাস্তবায়ন;
·মানবাধিকার এবং মৌলিক স্বাধীনতার সকল ক্ষেত্রে, যেমন, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ইত্যাদি ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষ যে সম-অধিকারী, তার স্বীকৃতি স্বরূপ নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ করা;
·নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ সনদ (সিডও) বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা;
·নারীর মানবাধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিদ্যমান আইন সংশোধন ও প্রয়োজনীয় নতুন আইন প্রণয়ন করা;
·বিদ্যমান সকল বৈষম্যমূলক আইন বিলোপ করা এবং আইন প্রণয়ন ও সংস্কারের লক্ষ্যে গঠিত কমিশন বা কমিটিতে নারী আইনজ্ঞদের অংশ গ্রহণ নিশ্চিত করা;
·স্থানীয় বা রাষ্টীয় পর্যায়ে কোন ধর্মের, কোন অনুশাসনের ভুল ব্যাখ্যার ভিত্তিতে নারী স্বার্থের পরিপন্থী ·এবং প্রচলিত আইন বিরোধী কোন বক্তব্য বা অনুরূপ কাজ করা বা কোন উদ্যোগ নেয়া যাবে না; ·বৈষম্যমূলক কোন আইন প্রণয়ন না করা বা বৈষম্যমূলক কোন সামাজিক প্রথার উণ্মেষ ঘটতে না দেয়া; গুণগত শিক্ষার সকল পর্যায়ে, চাকুরীতে, কারিগরী প্রশিক্ষণে, সম পারিতোষিকের ক্ষেত্রে, কর্মরত অবস্থায় স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তায়, সামাজিক নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্য পরিচর্যায় নারীর সমান অধিকার নিশ্চিত করা;
·মানবাধিকার ও নারী বিষয়ক আইন সম্পর্কে শিক্ষা প্রদান ও সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি করা;
·পিতা ও মাতা উভয়ের পরিচয়ে সন্তানের পরিচিতির ব্যবস্থা করা, যেমন জণ্মনিবন্ধীকরণ, সকল সনদপত্র, ভোটার তালিকা, ফরম, চাকুরীর আবদেনপত্র, পাসর্পোট ইত্যাদিতে ব্যক্তির নাম প্রদানের সময় পিতা ও মাতার নাম উল্লেখ করা;
২৷ মেয়ে শিশুর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ সাধন এবং সেই লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নতুন আইন প্রণয়ন করা
·বাল্যবিবাহ, মেয়ে শিশু ধর্ষণ, নিপীড়ন, পাচার এবং পতিতাবৃত্তির বিরুদ্ধে আইনের কঠোর প্রয়োগ কর;
·পরিবারের মধ্যে এবং বাইরে মেয়ে শিশুর প্রতি বৈষম্যহীন আচরণ এবং মেয়ে শিশুর ইতিবাচক চিত্র তুলে ধরা;
·মেয়ে শিশুর চাহিদা যেমন, খাদ্য, পুষ্টি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা;
·শিশুশ্রম বিশেষ করে মেয়ে শিশুশ্রম দূরীকরণ কর্মসূচী বাস্তবায়নের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেয়া;
৩৷ নারীর প্রতি সকল প্রকার নির্যাতন দূরীকরণ
·পারিবারিক ও সামাজিক পর্যায়ে এবং কর্মক্ষেত্রে নারীর প্রতি শারীরিক, মানসিক ও যৌন নিপীড়ন, নারী ধর্ষণ, পতিতাবৃত্তিতে নিয়োগ, যৌতুক ও নারীর প্রতি সহিংসতা দূর করা;
·নারী নির্যাতন প্রতিরোধ সম্পকী©ত প্রচলিত আইন যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে সংশোধন এবং নতুন আইন প্রণযন করা;
·নির্যাতিত নারীকে আইনগত সহায়তা দেয়া;
·নারী পাচার বন্ধ ও ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন করা;
·নারীর প্রতি নির্যাতন দূরীকরণ এবং এক্ষেত্রে আইনের প্রয়োগের জন্য বিচার ব্যবস্থায় পুলিশ বাহিনীর সর্বস্তরে বর্ধিত হারে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা;
·বিচার বিভাগ ও পুলিশ বিভাগকে নারীর অধিকার সংশ্লিষ্ট আইন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া ও জেন্ডার সংবেদনশীল করা;
·নারী ও মেয়ে শিশু নির্যাতন ও পাচার সম্পকী©য় অপরাধের বিচার ছয় মাসের মধ্যে নিষ্পন্ন করার লক্ষ্যে বিচার পদ্ধতি সহজতর করা৷
৪৷ সশস্ত্র সংঘর্ষ ও নারীর অবস্থান
·সশস্ত্র সংঘর্ষ ও জাতিগত যুদ্ধে নারীর অধিকতর নির্যাতিত ও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিরুদ্ধে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সচেতনতা সৃষ্টি করা;
·সংঘর্ষ বন্ধ ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা;
·আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠার মিশনে নারী প্রতিনিধি অন্তভুক্ত করা;
৫৷ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ
·নারী শিক্ষা বৃদ্ধি, নারী পুরুষের মধ্যে শিক্ষার হার ও সুযোগের বৈষম্য দূর করা এবং উন্নয়নের মূল স্রোতধারায় নারীকে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে সক্রিয় ও স্পষ্ট নীতি অনুসরণ করা;
·আগামী দশ বছরে নিরক্ষরতা দূর করার সর্বাত্নক প্রচেষ্টা গ্রহণ করা, বিশেষতঃ মেয়ে শিশু ও নারী সমাজের শিক্ষা প্রশিক্ষণের উপর সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া;
·বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রামে একটি করে প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা;
·মেয়েদের জন্যে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত অবৈতনিক করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা;
·টেকসই উন্নয়ন ও অব্যাহত অর্থনেতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে নারীর জন্য আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচী গ্রহণ এবং শক্তিশালী করা;
·শিক্ষার ক্ষেত্রে নারী ও মেয়ে শিশুর সমান অধিকার নিশ্চিত করা, শিক্ষার সকল পর্যায়ে অসমতা দূর করা, শিক্ষাকে সর্বজনীন করা, ভর্তির হার বৃদ্ধিসহ নিরক্ষরতা দূর করা এবং মেয়ে শিশুকে বিদ্যালয়ে ধরে রাখার লক্ষ্যে পদক্ষেপ গ্রহণ করা;
·জীবনব্যাপী শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করার লক্ষ্যে সকল স্তরের পাঠ্যসূচীতে নারী-পুরুষ সমতা প্রেক্ষিতে সংযোজন করা;
·নারীর দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সকল প্রশিক্ষণে নারীকে সমান সুযোগ দেয়া;
·নারী ও মেয়ের প্রতি দৃষ্টি রেখে বিদ্যমান নীতিসমূহের খাতওয়ারী সময়ভিত্তিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা; ·কারিগরী প্রযুক্তিগত ও উচ্চ শিক্ষাসহ সকল পর্যায়ে নারীর অংশ গ্রহণ বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশেষ কার্যক্রম গ্রহণ করা;
৬৷ ক্রীড়া ও সংস্কৃতি
·ক্রীড়া ক্ষেত্রে নারীর বর্ধিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা;
·স্থানীয় পর্যায়ে নারীর জন্য পৃথক ক্রীড়া কমপ্লেক্স গড়ে তোলা;
·সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলে নারীর বর্ধিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা;
·নাটক ও চলচ্চিত্র নির্মাণে নারীকে উত্‌সাহিত করার লক্ষ্যে সরকারী অনুদানের ব্যবস্থা করা;
৭৷ জাতীয় অর্থনীতির সকল কর্মকান্ডে নারীর সক্রিয় ও সমঅধিকার নিশ্চিতকরণ
·অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান সমূহের সিদ্ধান্ত গ্রহণ পর্যায়ে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং নারী-পুরুষের মধ্যে বিরাজমান পার্থক্য দূর করা;
·অর্থনৈতিক নীতি (বাণিজ্যনীতি, মুদ্রানীতি, করনীতি প্রভৃতি) প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে নারীর সমান অধিকার নিশ্চিত করা;
সংশোধনী ২০০৪: অর্থনৈতিক নীতি (বাণিজ্যনীতি, মুদ্রানীতি, করনীতি প্রভৃতি) প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে নারীর সংবিধানসম্মত অধিকার নিশ্চিত করা; ( এখানে সমান অধিকার কথাটি বাদ দেওয়া হয়েছে) ·নারীর ক্ষমতায়নের প্রতি লক্ষ্য রেখে সমষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি প্রণয়নে ও কর্মসূচীতে নারীর চাহিদা ও স্বার্থ বিবেচনায় রাখা;
·সমষ্টিক অর্থনৈতিক নীতির প্রয়োগে বিরূপ প্রতিক্রিয়া প্রতিহত করার লক্ষ্যে নারীর অনুকূলে গড়ে তোলা;
·সম্পদ, কর্মসংস্থান, বাজার ও ব্যবসায় নারীকে সমান সুযোগ ও অংশীদারিত্ব দেয়া; সংশোধনী ২০০৪ : কর্মসংস্থান, বাজার ও ব্যবসায় নারীকে সমান সুযোগ দেয়া; (সম্পদ,অংশীদারিত্ব শব্দগুলো বাদ দেওয়া হয়েছে)
·শিক্ষাপাঠ্যক্রম, বিভিন্ন পুস্তকাদিতে নারীর অবমূল্যায়ন দূরীভূত করা এবং নারীর ইতিবাচক ভাবামূর্তি তুলে ধরা;
·নারী-পুরুষ শ্রমিকদের সমান মজুরী ও কর্মস্থলে নিরাপত্তা প্রদান এবং চাকুরী ক্ষেত্রে বৈষম্য দূর করা; ·নারীর অংশগ্রহণ প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নারীর অবদানের স্বীকৃতি দেয়া;
·জাতীয় অর্থনীতিতে নারীর অবদান প্রতিফলনের জন্যে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান বু্যরোসহ সকল প্রতিষ্ঠানে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা;
·সরকারের জাতীয় হিসাবসমূহে গার্হস্থ্য শ্রমসহ সকল নারী শ্রমের সঠিক প্রতিফলন নিশ্চিত করা;
·নারী যেখানে অধিক সংখ্যায় কর্মরত আছেন সেখানে যাতায়াত ব্যবস্থা, বাসস্থান, বিশ্রামাগার, পৃথক প্রক্ষালনকক্ষ এবং দিবাযত্ন কেন্দ্র স্থাপনসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা৷
৭.১ নারীর দারিদ্র্য দূরীকরণ
·দরিদ্র নারী শ্রমশক্তির দক্ষতা বৃদ্ধিকল্পে তাদের সংগঠিত করে ও প্রশিক্ষণ দিয়ে নতুন এবং বিকল্প অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুযোগ সৃষ্টি করা;
·দরিদ্র নারীকে উত্‌পাদনশীল কর্মে এবং অর্থনৈতিক মূলধারায় সম্পৃক্ত করা;
·অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিত্‌সা, শিক্ষাসহ নারীর সকল চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে জাতীয় বাজেটে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা;
·জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে নারীর দারিদ্র দূরীকরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সহায়তা দান ও অনুপ্রাণিত করা
৭.২ নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন
·নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে জরুরী বিষয়াদি যথা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, জীবনব্যাপী শিক্ষা, কারিগরী শিক্ষা, তথ্য, উপার্জনের সুযোগ, উত্তরাধিকার, সম্পদ, ঋণ প্রযুক্তি এবং বাজার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অর্জিত সম্পদসহ ভূমির উপর অধিকার ইত্যাদির ক্ষেত্রে নারীর পূর্ণ ও সমান সুযোগ এবং নিয়ন্ত্রণের অধিকার দেয়া এবং সেই লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নতুন আইন প্রণয়ন করা;

সংশোধনী ২০০৪ : নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে জরুরী বিষয়াদি যথা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, জীবনব্যাপী শিক্ষা, কারিগরী শিক্ষা, তথ্য, উপার্জনের সুযোগ, ঋণ, প্রযুক্তি এবং বাজার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ ইত্যাদির ক্ষেত্রে নারীর পূর্ণ ও সমান সুযোগ এবং নিয়ন্ত্রণের অধিকার দেয়া এবং সেই লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নতুন আইন প্রণয়ন করা৷ (এখানে “উত্তরাধিকার”, “সম্পদ” এবং “ভূমির উপর অধিকার” শব্দগুলো বাদ দেওয়া হয়েছে)
৭.৩ নারীর কর্মসংস্থান :
·নারী শ্রমশক্তির শিক্ষিত ও নিরক্ষর উভয় অংশের কর্মসংস্থানের জন্যে সর্বাত্নক উদ্যোগ গ্রহণ করা;
·চাকুরী ক্ষেত্রে নারীর বর্ধিত নিয়োগ করার লক্ষ্যে প্রবেশ পর্যায়সহ সকল ক্ষেত্রে কোটা বৃদ্ধি এবং কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা;
·সকল নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানকে সরকার অনুসৃত কোটা ও কর্মসংস্থান নীতির আওতায় চাকুরী ক্ষেত্রে নারীকে সকল প্রকার সম-সুযোগ প্রদানের জন্য উদ্বুদ্ধ করা;
·নারী উদ্যোক্তা শ্রেণী গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিশেষ প্রশিক্ষণ ও ঋণদান কর্মসূচী গ্রহণ করা;
· নারীর বর্ধিত হারে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ, অবস্থান ও অগ্রসরমানতা বজায় রাখার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পরিবেশ গড়ে তোলা;
·নারীর ব্যাপক কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকল আইন, বিধি ও নীতির প্রয়োজনীয় সংস্কার করা৷ ৭.৪ সহায়ক সেবা
·সকল অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে ও উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় নারীর কার্যকর অংশগ্রহণের লক্ষ্যে সহায়ক সেবা যেমন, শিশুযত্ন সুবিধা, কর্মস্থলে শিশু দিবাযত্ন পরিচর্যা কেন্দ্র, বৃদ্ধ, অক্ষম, প্রতিবন্ধী নারীদের জন্যে গৃহায়ন, স্বাস্থ্য, বিনোদনের ব্যবস্থা প্রবর্তন, সম্প্রসারণ এবং উন্নীত করা;
সংশোধনী ২০০৪ : সকল অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে ও উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় নারীর কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সহায়ক সেবা যেমন, শিশুযত্ন সুবিধা, কর্মস্থলে শিশু দিবাযত্ন পরিচর্যা কেন্দ্র বৃদ্ধি, অক্ষম, প্রতিবন্ধী নারীদের জন্যে গৃহায়ন, স্বাস্থ্য, বিনোদনের ব্যবস্থা প্রবর্তন, সম্প্রসারণ এবং উন্নীত করা; (এখানে “বৃদ্ধ” শব্দটি বাদ দেওয়া হয়েছে )
৭.৫ নারী ও প্রযুক্তি
·নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন, আমদানী ও প্রয়োগের ক্ষেত্রে জেন্ডার প্রেক্ষিত প্রতিফলিত করা;
·উদ্ভাবিত প্রযুক্তির প্রয়োগের ফলে নারীর স্বার্থ বিঘ্নিত হলে গবেষণার মাধ্যমে ঐ প্রযুক্তিকে নারীর প্রতি ক্ষতিকারক উপাদানমুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা;
·প্রযুক্তি ক্ষেত্রে নারীর স্বার্থের অনুকূলে লক্ষ্যসমূহ অর্জনের জন্যে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন ও সংস্কার করা৷
৭.৬ নারীর খাদ্য নিরাপত্তা
·দুঃস্থ নারীর চাহিদা ও প্রয়োজনের প্রতি লক্ষ্য রেখে সরকারী খাদ্য বিতরণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা; ·খাদ্য নিরাপত্তা অর্জন প্রক্রিয়ায় পরিকল্পনা, তত্ত্বাবধান ও বিতরণে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা;

৮৷ নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন
·রাজনীতিতে অধিকহারে নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্যে প্রচার মাধ্যমসহ রাজনৈতিক দলসমূহকে সর্বাত্নক প্রচেষ্টা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করা;
·নারীর রাজনৈতিক অধিকার অর্জন ও প্রয়োগ এবং সুফল সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির কর্মসূচী বাস্তবায়ন করা;
·নির্বাচনে অধিকহারে নারী প্রার্থী মনোনয়ন দেয়ার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে অনুপ্রাণিত কর;
·নারীর রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের ও প্রতিষ্টার লক্ষ্যে ভোটাধিকার প্রয়োগে সচেতন করা এবং তৃণমূল পর্যায় থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত ভোটার প্রশিক্ষণ কর্মসূচী বাস্তবায়ন করা;
·রাজনীতিতে নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণের তাগিদ সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে নারী সংগঠনসহ বেসরকারী প্রতিষ্ঠানসমূহকে প্রচার অভিযান গ্রহণ করার জন্য উদ্বুদ্ধ করা;
সংশোধনী ২০০৪: এই লাইনটি বাদ দেওয়া হয়েছে৷
·জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসনে চলতি সময়সীমা শেষ হবার পর ২০০১ সালে বর্ধিত সংরক্ষিত আসনে প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচন অনুষ্টানের জন্য উদ্যোগ নেয়া;
সংশোধনী ২০০৪ : জাতীয় সংসদে নারীদের অধিকতর অংশগ্রহন নিশ্চিত করার জন্য সংরক্ষিত আসন বৃদ্ধিসহ অন্যান্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহন করা৷ (এখানে সংরক্ষিত আসনে প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচন অনুষ্টানের কথা বাদ দেওয়া হয়েছে)৷
·স্থানীয় সরকার পদ্ধতির সকল পর্যায়ে বর্ধিত সংরক্ষিত আসনে প্রত্যক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করা;
·সিদ্ধান্ত গ্রহণের সর্বোচ্চ স্তর মন্ত্রী পরিপদে, প্রয়োজনে সংবিধানের সংশ্লিষ্ট ধারার অধীনে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী নিয়োগ করা;
সংশোধনী ২০০৪ : সিদ্ধান্ত গ্রহণের সর্বস্তরে সংবিধানের সংশ্লিষ্ট ধারার অধীনে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী নিয়োগ করা৷(এখানে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সর্বোচ্চ স্তর মন্ত্রী পরিষদে প্রয়োজনীয় সংখ্যক নারী নিয়োগের সুনির্দিষ্ট বিধান বাদ দেওয়া হয়েছে)৷
ঌ৷ নারীর প্রশাসনিক ক্ষমতায়ন
·প্রশাসনিক কাঠামোর উচ্চ পর্যায়ে নারীর জন্য সরকারী চাকুরীতে প্রবেশ সহজ করার লক্ষ্যে চুক্তিভিত্তিক এবং সরাসরি প্রবেশের (লেটারেল এনট্রি) ব্যবস্থা করা;
·বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোতে রাষ্ট্রদূতসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরী কমিশন, পরিকল্পনা কমিশন, বিচার বিভাগের উচ্চ পদে নারীদের নিয়োগ প্রদান করা;
সংশোধনী ২০০৪ : জাতিসংঘের বিভিন্ন শাখা ও অঙ্গ সংগঠনে এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংগঠনে রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধি বা প্রার্থী হিসেবে নারীকে নিয়োগ/মনোনয়ন দেয়া;
·নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে প্রবেশ পর্যায়সহ সকল পর্যায়ে, গেজেটেড ও নন-গেজেটেড পদে কোটা বৃদ্ধি করা;
·সকল ক্ষেত্রে নারীর জন্য নির্ধারিত কোটা পূরণ সাপেক্ষে কোটা পদ্ধতি চালু রাখা;
·কোটার একই পদ্ধতি স্বায়ত্বশাসিত ও বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে প্রযোজ্য হবে এবং বেসরকারী ও স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানসমূহকেও এই নীতি অনুসরণের জন্য উত্‌সাহিত করা;
·জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের সুপারিশ অনুসারে সরকারের নীতি নির্ধারণী পদসহ সিদ্ধান্ত গ্রহণের সকল স্তরে নারীর সম ও পূর্ণ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে শতকরা ৩০ভাগ পদে নারী নিয়োগের উদ্দেশ্যে সর্বাত্নক উদ্যোগ গ্রহণ করা৷
সংশোধনী ২০০৪ : জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের সুপারিশ অনুসারে সরকারের নীতি নির্ধারণী পদসহ সিদ্ধান্ত গ্রহণের সকল স্তরে নারীর অধিকতর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বর্তমানে প্রচলিত কোটা পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধিও উদ্দেশ্যে উদ্যোগ গ্রহণ করা৷ (এখানে সম ও পূর্ণ শব্দ এবং শতকরা ৩০ ভাগ পদে নারী নিয়োগের উদ্দেশ্যে সর্বাত্নক উদ্যোগ গ্রহণ করা কথাগুলো বাদ দেওয়া হয়েছে)
১০৷ স্বাস্থ্য ও পুষ্টি
·নারীর জীবন চক্রের সকল পর্যায়ে যথা, শৈশব, কৈশোর, যৌবন, গর্ভকালীন সময় এবং বৃদ্ধ বয়সে পুষ্টি, সর্বোচ্চ মানের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য লাভের অধিকার নিশ্চিত করা;
·নারীর জন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী;
·প্রসূতি ও শিশু মৃতু্যর হার কমানো;
·এইডস রোগসহ সকল ঘাতকব্যাধি প্রতিরোধ করা বিশেষতঃ গর্ভকালীন স্বাস্থ্যসহ নারীর স্বাস্থ্য সম্পর্কীত গবেষণা করা এবং স্বাস্থ্য তথ্যের প্রচার ও সচেতনতা বৃদ্ধি করা;
·নারীর পুষ্টি বিষয়ক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রদান করা;
·জনসংখ্যা পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নারীর প্রজনন স্বাস্থ্য ও প্রজনন অধিকারের বিষয়টি বিবেচনায় রাখা;
·বিশুদ্ধ নিরাপদ পানীয় জল ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থায় নারীর প্রয়োজনের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া ; v ·উল্লেখিত সকল সেবার পরিকল্পনা, বিতরণ এবং সংরক্ষণে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা;
·পরিবার পরিকল্পনা ও সন্তান গ্রহণের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে পুরুষ ও নারীর সমান অধিকার নিশ্চিত করা; ·নারীর স্বাস্থ্য, শিশুর শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধি, জণ্ম-নিয়ন্ত্রণে সাহায্য, কর্মস্থলে মা’র কর্মক্ষমতা বাড়ানো ও মাতৃবান্ধব কর্ম পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মায়ের বুকের দুধের উপকারিতার পক্ষে যথোপযুক্ত আইন প্রণয়ন করা;
·মায়ের দুধ শিশুর অধিকার,এই অধিকার (পঁাচ মাস শুধুমাত্র বুকের দুধ) নিশ্চিত করার লক্ষ্যে শিশু প্রসবের সময় থেকে পরবতী ৪ মাস ছুটি ভোগের জন্য আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা এবং শিশুর জণ্মের পূর্বে মা-কে মাতৃজনিত প্রয়োজনীয় ছুটি দেয়া;
১১৷ গৃহায়ন ও আশ্রয়
·পল্লী ও শহর এলাকার গৃহায়ন পরিকল্পনা ও আশ্রয় ব্যবস্থায় নারী প্রেক্ষিতে অন্তভূক্ত করা;
·একক নারী, নারী প্রধান পরিবার, শ্রমজীবি ও পেশাজীবি নারী, শিক্ষানবিশ ও প্রশিক্ষণণার্থী নারীর জন্য পর্যাপ্ত নিরাপদ গৃহ ও আবাসন সুবিধা প্রদানের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া;
·নারীর জন্য বিশেষ সুবিধা যেমন, হোস্টেল, ডরমেটরী, বয়স্কদের হোম, স্বল্পকালীন আবাসস্থলের ব্যবস্থা করা এবং গৃহায়ন ও নগরায়ন পরিকল্পনায় দরিদ্র, দুঃস্থ ও শ্রমজীবি নারীর জন্য সংরক্ষিত ব্যবস্থা রাখা;
·সরকারী বাসস্থান বরাদ্দের ক্ষেত্রে নিম্নবেতনভুক্ত নারী কর্মচারীসহ সকল স্তরের নারীর জন্যে বিশেষ ব্যবস্থা রাখা৷
১২৷ নারী ও পরিবেশ
·প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশের নিরাপত্তায় নারীর অবদান স্বীকার করে পরিবেশ সংরক্ষণের নীতি ও কর্মসূচীতে নারীর সমান অংশগ্রহণের সুযোগ ও নারী প্রেক্ষিত প্রতিফলিত করা; ·পরিবেশ ব্যবস্থাপনা ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ সম্পকী©য় সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও কর্মসূচী বাস্তবায়নে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা;
·নদীভাঙ্গন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত নারী ও শিশুর পুনর্বাসন করা;
·কৃষি, মত্‌স, গবাদি পশুপালন ও বনায়নে নারীকে উত্‌সাহিত ও সমান সুযোগ দেয়া; সংশোধনী ২০০৪ : কৃষি, মত্‌স, গবাদি পশুপালন ও বনায়নে নারীকে উত্‌সাহিত করা ও অগ্রাধিকার দেয়া৷
১৩৷ নারী ও গণ মাধ্যম
·গণমাধ্যমে নারীর সঠিক ভূমিকা প্রচার, প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা এবং অংশগ্রহণের বৈষম্য দর করা, গণমাধ্যমে নারী ও মেয়ে শিশুর ও মেয়ে শিশুর অংশগ্রহণ, মতামত প্রকাশ, সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ বৃদ্ধি ও নারী ও মেয়ে শিশুর ইতিবাচক প্রতিফলন ঘটানো;
·নারীর প্রতি অবমাননাকর, নেতিবাচক, সনাতনী প্রতিফলন এবং নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা বন্ধের লক্ষ্যে প্রচার ব্যবস্থা করা;
·বিভিন্ন গণমাধ্যমের ব্যবস্থাপনা ও আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণে নারীর জন্য সমান সুযোগ রাখা;
·প্রচার মাধ্যম নীতিমালায় জেন্ডার প্রেক্ষিত সমন্বিত করা;
·উপরোক্ত বিষয়ের আলোকে আইন, প্রচারনীতি, নিয়ন্ত্রণবিধি ও আচরণবিধি প্রণয়ন করা;
১৪৷ বিশেষ দুর্দশাগ্রস্ত নারী
·নারীর অবস্থানের বিভিন্নতা এবং বিশেষভাবে দুর্দশাগ্রস্ত নারীর প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে তাদেরকে বিশেষ সুবিধা প্রদানের পদক্ষেপ ও কর্মসূচী গ্রহণ করা৷ এইসব নীতিমালা সঠিকভাবে বাস্তবায়নের জন্য সরকার কিছু পদক্ষেপ গ্রহন করেছেন৷ যা “জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি বাস্তবায়ন কৌশল” নামে পরিচিত৷ নীচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি বাস্তবায়ন কৌশল
১৷ প্রাতিষ্ঠানিকব্যবস্থাওকৌশল নারী উন্নয়ন নীতি ও কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মূল দায়িত্ব সরকারের৷ একটি সুসংগঠিত ও সুবিন্যস্ত প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ার মাধ্যমে এ দায়িত্ন সুচারুরূপে সম্পন্ন করা সম্ভব৷ সরকারী-বেসরকারী সকল পর্যায়ের কর্মকান্ডে নারী উন্নয়ন প্রেক্ষিতে অন্তভুক্তির বিষয়ে প্রচেষ্টা নেয়া হবে৷ এ লক্ষ্যে নিম্নলিখিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে
১.১ জাতীয় পর্যায় ক) নারী উন্নয়নে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো নারীর সমতা, উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে জাতীয় অবকাঠামো যেমন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, জাতীয় মহিলা সংস্থা ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমীর প্রশাসনিক কাঠামো শক্তিশালী করা হবে৷ এসব প্রতিষ্ঠানের জনবল ও সম্পদ নিশ্চিত করা হবে৷ পর্যায়ক্রমে দেশের সকল বিভাগ, জেলা, থানা, ও ইউনিয়ন পর্যায়ে এসব প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কাঠামো বিস্তৃত করা হবে৷ নারী উন্নয়নের যাবতীয় কর্মসূচী প্রণয়ন, বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণের জন্যে এ প্রতিষ্ঠান সমূহের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে৷ জাতীয় মহিলা সংস্থা, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমীকে থানা, জেলা ও জাতীয় পর্যায়ে সংগঠিত ও শক্তিশালী করা হবে৷
খ) জাতীয় মহিলা উন্নয়ন পরিষদ নারী উন্নয়ন নীতি নির্ধারণ ও উন্নয়ন কর্মসূচী বাস্তবায়ন ও পর্যালোচনার জন্যে প্রধানমন্ত্রিকে সভাপতি করে ৪৪ সদস্য বিশিষ্ট জাতীয় মহিলা উন্নয়ন পরিষদ গঠন করা হয়েছে৷ এ পরিষদে কার্যপরিধি নিম্নরূপ:
:: আর্থ-সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে মহিলাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার উন্নয়নমূলক কার্যক্রম সংক্রান্ত নীতি প্রণয়ন ও কার্যক্রমের সমন্বয় সাধন;
:: মহিলাদের আইনগত অধিকার, মহিলা উন্নয়ন এবং মহিলাদের নির্যাতন প্রতিরোধ সংক্রান্ত বিষয়াবলী সম্বন্ধে নীতি প্রণয়ন ;
:: সকল কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের স্বার্থ সংরক্ষণ, অংশগ্রহণ ও তাদের ভাগ্যোন্নয়ন সম্পর্কে গৃহীত পদক্ষেপ বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ৷ জাতীয় মহিলা উন্নয়ন পরিষদের সভা বছরে নূ্যনপক্ষে দু’বার অনুষ্ঠিত হবে৷
গ) সংসদীয় কমিটি বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ কর্তৃক গঠিত নারী উন্নয়ন বিষয়ক সংসদীয় স্থানীয় কমিটি নারী উন্নয়ন কর্মসূচী পর্যালোচনা করে নারী অগ্রগতির লক্ষ্যে সরকারকে সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ গ্রহণ করার পরামর্শ প্রদান করবে৷
ঘ) নারী উন্নয়নে ফোকাল পয়েন্ট বিভিন্ন ফোকাল পয়েন্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগ/সংস্থা জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতির আলোকে কর্মসূচী গ্রহণ, প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করবে৷ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ/সংস্থায় নারী উন্নয়ন কার্যক্রম যাতে যথাযথভাবে সম্পন্ন করা যায় সে জন্যে ঐ প্রতিষ্ঠানসমূহে উপ-সচিব/উপ-প্রধানের স্থলে নূ্যনতম পক্ষে যুগ্ন-সচিব/যুগ্ন-প্রধান পদমর্যাদাসম্পন্ন কর্মকর্তাকে ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে মনোনীত করা হবে৷ নারী উন্নয়ন কার্যক্রমের নিয়মিত মনিটরিং এর উদ্দেশ্যে মন্ত্রণালয়/বিভাগ/সংস্থার মাসিক এডিপি পর্যালোচনা সভা ও মাসিক সমন্বয় সভায় আলোচনা ও পর্যালোচনা করা হবে৷ তাছাড়া, ফোকাল পয়েন্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগ/সংস্থার কার্যক্রমে যাতে জেন্ডার প্রেক্ষিতে প্রতিফলিত হয় ও তাদের বিভিন্ন প্রতিবেদন ও দলিলসমূহের জেন্ডার বিষয়ে সুস্পষ্ট ও পর্যাপ্ত তথ্য সন্নিবেশিত হয় সে লক্ষ্যে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে৷
ঙ) মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রীকে সভাপতি ও নারী উন্নয়নে চিহ্নিত ফোকাল পয়েন্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারী-বেসরকারী নারী উন্নয়নমূলক সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি “নারী উন্নয়ন বাস্তবায়ন ও মূল্যায়ন কমিট” গঠন করা হবে৷ এ কমিটি নারী উন্নয়ন সম্পকীয় কর্মসূচী পর্যালোচনা, সমন্বয় ও মূল্যয়ন করবে৷ কমিটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সমস্যা চিহ্নিত করে ভবিষ্যত্‌কর্মসূচী দ্রুত বাস্তবায়নের জন্যে পরামর্শ প্রদান করবে৷
১.২ থানা ও জেলা পর্যায়ে নারীর অগ্রগতি ও ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে পর্যায়ের প্রশাসন, জেলা পরিষদ, পৌরসভা, স্থানীয় সরকার, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দপ্তর ও এনজিওদের কার্যক্রমের সমন্বয় সাধন ও নারী উন্নয়ন কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে৷
১.৩ তৃণমূল পর্যায় তৃণমূল পর্যায়ে গ্রাম ও ইউনিয়নে নারীকে স্বাবলম্বী দল হিসেবে সংগঠিত করা হবে৷ এ দলসমূহকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বিভিন্ন সরকারী সংস্থার আওতায় নিবন্ধীকৃত সংগঠন হিসেবে রূপ দেয়া হবে৷ সরকারী, বেসরকারী উত্‌স, ব্যাংক, অন্যান্য আর্থিক সংস্থা থেকে প্রাপ্ত সম্পদ আহরণ করে এ সংগঠনগুলোর সাথে ইউনিয়ন পরিষদ, থানা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশন সমূহের নিবিড় সম্পর্ক স্থাপন ও সমন্বয় সাধন করা হবে৷ উপরন্তু, তৃণমূল পর্যায়ের সকল সংগঠনের কার্যক্রমের স্থানীয় উন্নয়নের প্রেক্ষিত অন্তভুক্তির জন্যে উত্সাহিত এবং সহায়তা দান করা হবে৷
২৷ নারী উন্নয়নে এনজিও এবং সামাজিক সংঘঠনের সাথে সহযোগিতা প্রকৃত নারী উন্নয়নে একটি ব্যাপক কাজ৷ সরকারের একার পক্ষে এ কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করা কার্যতঃ অসম্ভব৷ তাই, এ কাজে সরকারী-বেসরকারী উদ্যোগের সমন্বয় ঘটানোর প্রয়াস নেয়া হবে যাতে করে সর্বস্তরের জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়৷ এক্ষেত্রে, নিজস্ব কর্মসূচীর অতিরিক্ত বা সহায়কের ভূমিকা পালন করাই হবে সরকারের মূল দায়িত্ব৷ বেসরকারী ও সামাজিক সংগঠন সমূহকে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে নিম্নলিখিত পদক্ষেপ নেয়া হবে৷
ক. গ্রাম, থানা, জেলা, বিভাগ ও জাতীয় পর্যায়ে নারী উন্নয়নের সকল স্তরে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা পালনকারী স্বেচ্ছাসেবী ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে সম্পৃক্তকরণ ও তাদের কর্মকান্ডের সাথে সমন্বয় সাধন করা হবে৷ নারী উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে সহায়ক সেবা প্রদান করা হবে৷ সরকারী সকল কর্মকান্ডে তাদের সহযোগিতা নিশ্চিত করা হবে৷ নারীর ক্ষমতায়ন প্রক্রিয়ায় যথোপযুক্ত ভূমিকা পালনের লক্ষ্যে নারীর প্রতি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গী পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে এসব প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় কর্মসূচী গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হবে৷
খ. জাতীয় থেকে তৃণমূল পর্যায়ে নারী উন্নয়ন, নারী অধিকার সংরক্ষণ, সচেতনতা সৃষ্টি, নারী নির্যাতন প্রতিরোধ, আইনগত সহায়তাদান এবং এ জাতীয় কর্মসূচী বাস্তবায়নরত নারী সংগঠন সমূহকে শক্তিশালী করার জন্য সহায়তা দান করা হবে৷ উল্লেখিত ধরণের কর্মসূচী প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে নারী সংগঠন সমূহের সাথে সহায়তা ও সমন্বয় করা হবে৷ ৩৷ নারী ও জেন্ডার সমতা বিষয়ক গবেষণা নারী উন্নয়ন ও সমতা বিষয়ে ব্যাপক গবেষণা পরিচালনার জন্যে দক্ষতা বৃদ্ধির ব্যবস্থা নেয়া হবে৷ সকল গবেষণা প্রতিষ্ঠানকে নারী উন্নয়ন, ক্ষমতায়ন এবং নারী ও শিশুদের অধিকার সম্পর্কিত বিষয়ে গবেষণা পরিচালনায় উত্‌সাহিত করা হবে৷ পৃথক জেন্ডার গবেষণা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে৷ সেখান থেকে নীতি নির্ধারকদের প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করা হবে৷
৩.১ জেন্ডার ভিক্তিক তথ্য ও উপাত্ত জেন্ডার ভিক্তিক তথ্য/উপাত্ত সংগ্রহ, সন্নিবেশ এবং নিয়মিত প্রকাশনার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে৷ সরকারী ও বেসরকারী গবেষণা কেন্দ্র, বু্যরো অব স্ট্যাটিসটিকস এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাথমিক তথ্য/উপাত্ত সংগ্রহকারী অঙ্গসমূহ নারীর অবস্থান ও ভুমিকা সংক্রান্ত যেসব উপাত্তের ঘাটতি রয়েছে তা সংগ্রহ এবং প্রতিফলনের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ ও জেন্ডার ভিত্তিক ডেটাবেজ গড়ে তুলবে৷ সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয়/দপ্তর, কর্পোরেশন, ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান সকল কার্যের জন্যে জেন্ডার ভিত্তিক তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং প্রকাশনার ব্যবস্থা করবে৷
৪৷ নারী উন্নয়ন প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান ঢাকায় বিদ্যমান নারী উন্নয়ন প্রশিক্ষণ শক্তিশালীকরণসহ বিভাগ, জেলা ও থানায় প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে৷ এসব কেন্দ্রে বিভিন্ন কারিগরী, বৃত্তিমূলক, নারী অধিকার এবং শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ দেয়া হবে৷
৫৷ কর্ম-পরিকল্পনা ও কর্মসূচীগত কৌশল
ক) মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য মন্ত্রণালয়/বিভাগ/সংস্থা এবং জেলা, থানা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের সরকারী-বেসরকারী সংগঠনসমূহ জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্যে কর্ম-পরিকল্পনা গ্রহণ করবে৷
খ) সকল মন্ত্রণালয়/বিভাগ/সংস্থার নিজ নিজ কর্ম-পরিকল্পনায় জেন্ডার প্রেক্ষিতের প্রতিফলন ঘটানো হবে যাতে করে সকল খাতে নারীর সুষম অধিকার ও স্বার্থ সংরক্ষিত হয়৷
গ) সকল কর্ম-পরিকল্পনা ও কর্মসূচী বাস্তবায়নের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেয়া হবে৷
ঘ) মনিটরিং ও মূল্যায়নের উদ্দেশ্যে সকল কর্ম-পরিকল্পনা ও কর্মসূচীর অগ্রগতির নির্দিষ্ট সময় অন্তর পর্যালোচনা করা হবে৷
ঙ) বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ/সংস্থার কর্ম-পরিকল্পনা ও কর্মসূচীতে যাতে নারী প্রেক্ষিত সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয় সে লক্ষ্যে কর্ম-পরিকল্পনা ও কর্মসূচী প্রণয়নকারী কর্মকর্তাবৃন্দকে পিএটিসি, প্লানিং একাডেমী ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে জেন্ডার এবং উন্নয়ন বিষয়ে যথাযথ প্রশিক্ষণ দেয়া হবে৷ এ লক্ষ্যে পাঠ্যসূচীতে ও কোর্সে জেন্ডার ও উন্নয়ন সম্পকী©য় বিষয় অন্তভুক্ত করা হবে৷
চ) নারী উন্নয়নের লক্ষ্যে সামাজিক সচেতনায়ন কর্মসূচীর উপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হবে৷ এই সচেতনায়ন কর্মসুচীতে অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে
(১) আইনবিধি ও দলিলাদি থেকে নারীর মর্যাদাহানিকর বক্তব্য ও মন্তব্য অপসারণ
(২) মন্ত্রণালয় ও সংস্থার কার্যনির্বাহী, আইন ও বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা নীতি নির্ধারক, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তা, বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাবৃন্দের সচেতনায়ন এবং
(৩) নারী-পুরুষের সম্পর্ক, অধিকার ও নারী উন্নয়ন সংক্রান্ত বিষয়াবলী শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের পাঠ্যসূচীতে অন্তভুক্তকরণ ইত্যাদি বিষয়ের উপর সবিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হবে৷ সমাজের সকল স্তরে বিশেষভাবে প্রণীত এবং সুষ্ঠু অর্থায়নের ভিত্তিতে নারী বিষয়ে সংবেদনশীলকরণ কর্মসূচী নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে৷ এ ব্যাপারে প্রশাসন, বিশেষতঃ আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, বিচার বিভাগ এবং সরকারী-বেসরকারী সকল উন্নয়ন সংস্থার কর্মকর্তা কর্মচারীদের বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে৷ নারীর বিষয়ে সংবেদনশীলকরণ কর্মসূচী সরকারী ও বেসরকারী উভয় ক্ষেত্রে সকল চলতি প্রশিক্ষণ কর্মসূচীতে পর্যায়ক্রমে সমন্বিত করা হবে৷
ছ) নারী উন্নয়নের লক্ষ্যে নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কর্মসূচীর উপরও বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হবে৷ বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠানকে এ উদ্দেশ্যে সুপরিকল্পিত কর্মসূচী গ্রহণ করতে উদ্বুদ্ধ করা হবে৷ এ সব কর্মসূচীতে সচেতায়ন, আইনগত পরামর্শ ও শিক্ষা, শাস্তিমূলক ব্যবস্থা তথা মামলা পরিচালনা করা, মামলা পরিচালনার জন্যে নিরাপদ আশ্রয় ও পুনর্বাসন, আর্থিক সহায়তা ইত্যাদি কার্যক্রম অন্তভুক্ত থাকবে৷ এ ক্ষেত্রে একটি বিশেষ কৌশল হিসেবে মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ সেলসহ অন্যান্য নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ সেলের কর্মপরিধিকে বিস্তৃত ও শক্তিশালী করা হবে৷
৬৷ আর্থিক ব্যবস্থা তৃণমূল পর্যায়ে ইউনিয়ন পরিষদ, থানা পরিষদ ও জেলা পরিষদ নারী উন্নয়নের লক্ষ্যে অর্থ বরাদ্দ করা হবে৷ জাতীয় পর্যায়ে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের রাজত্ব ও উন্নয়ন বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হবে৷ নারী উন্নয়নে নিয়োজিত মন্ত্রণালয় এবং সংস্থা যেমন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়, শ্রম ও জনশক্তি, কৃষি, শিল্প, শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রভৃতি মন্ত্রণালয়ে নারী উন্নয়নের জন্য লক্ষ্যমাত্রা ও কর্মসূচী চিহ্নিত করে অতিরিক্ত বাজেট বরাদ্দ করা হবে৷ পরিকল্পনা কমিশন সকল খাতে বিশেষ করে শিক্ষা, শিল্প, গৃহায়ন, পানিসম্পদ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ, প্রশিক্ষণ, দক্ষতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান এবং অন্যান্য উপ-খাতে নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক ভৌত ও আর্থিক সম্পদ চিহ্নিত করে অর্থ বরাদ্দ করবে৷ অর্থনৈতিক সম্পর্কে বিভাগ নারী উন্নয়নে আন্তর্জাতিক উত্‌স থেকে নতুন ও অতিরিক্ত আর্থিক সহযোগিতা প্রাপ্তির প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে৷ সংশোধনী – ২০০৪ : জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতিমালা নারীসমাজের সাথে আলোচনা ছাড়াই মে-২০০৪ সালে সংশোধন করা হয়েছে৷ আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে সংশোধিত এই নীতিমালায় লক্ষ্য করছি যে, কিছু কিছু জায়গায় এমন সংশোধন করা হয়েছে যা নারীর প্রকৃত অগ্রগতি ও অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বাধার সৃষ্টি করবে৷ এ নীতিতে নারী সমাজের মৌলিক দাবী জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে সরাসরি নির্বাচনের কথাসহ বেশ কিছু বিষয় বাদ দেওয়া হয়েছে৷ ১ঌঌ৭ সালে দেশে প্রথম জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতিটি প্রণীত হয়েছিল৷ অথচ সংশোধিত নতুন নারী উন্নয়ন নীতিতে কোথাও এর উল্লেখ নেই৷ ফলে কোন সরকারের আমলে নীতিটি গৃহীত তা সুস্পষ্ট নয়৷ এ নিয়ে নারী সমাজের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে৷ জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতিতে কোন পরিবর্তন আনতে হলে নারী সমাজের সাথে আলোচনার ভিত্তিতেই তা করতে হবে৷ তা না হলে কোন আরোপিত সংশোধনই মানবে না নারী সমাজ৷ জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতিমালার উপর ভিত্তি করেই প্রতিটি মন্ত্রনালয়ের জন্য জাতীয় কর্মপরিকল্পনা তৈরী হয়৷ কিন্তু বেশীরভাগ মন্ত্রনালয় এই সংশোধনের কথা জানতে পারেনি৷ এমনকি মহিলা অধিদপ্তর সংশ্লিষ্টরাও বিষয়টি জানতে পারেননি৷ তাহলে কাদের স্বার্থে এই সংশোধন, এই প্রশ্ন সবার। সংশোধনের নামে জাতীয় নীতিমালায় নারীর স্বার্থবিরোধী কিছু পরিবর্তন, সংযোজন ও বিয়োজন করা হয়েছে৷ উন্নয়ন নীতিমালার ১৪টি মূলধারার শিরোনামে কোন সংশোধন বা পরিবর্তন আনা হয়নি৷ তবে ভেতরে বিভিন্ন ধারার শব্দ পরিবর্তন করে নারীর অধিকার খর্ব করা হয়েছে৷ কোথাও কোথাও একেবারে বাদ দেওয়া হয়েছে নারীর সম-অধিকার৷ সংশোধিত জাতীয় নীতিমালায় যে অসংগতি আমরা দেখছি তা হলো :
.ধারা ৭-এ অর্থনেতিক নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে নারীর সমান অধিকার নিশ্চিত করা বিষয়টির সংশোধনীতে ‘সমান অধিকার’ শব্দটি বাদ দিয়ে ‘সংবিধানসম্মত অধিকার’ শব্দটি যোগ করা হয়েছে৷ একই ধারায় সম্পদ, কর্মসংস্থান, বাজার ও ব্যবসায় নারীকে সমান সুযোগ ও অংশীদারিত্ব দেয়া বিষয়টির ক্ষেত্রে ‘সম্পদ’ ও ‘ অংশীদারিত্ব’ বিষয়টি বাদ দেওয়া হয়েছে৷ এর মাধ্যমে একপ্রকার নারীর সমঅধিকার ও অংশীদারীত্বকে খর্ব করা হয়েছে৷
.৭.২ ধারায় নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে সংশোধনীতে “উত্তরাধিকার”, “সম্পদ” এবং “ভূমির উপর অধিকার” শব্দগুলো বাদ দেওয়া হয়েছে৷ আমরা মনে করি এতে নারীকে “অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণকারী” হিসাবে এবং “সম্পদের ভোগকারী” হিসাবে দেখানো হয়েছে৷ “অংশীদার, সম্পদের মালিক/অধিকার” হিসাবে নয়
.নারীর কর্মসংস্থান বিষয়ক
৭.৩ ধারায় “যথোপযুক্ত” শব্দটি উল্লেখ থাকায় নারীর বৈচিত্রময় কর্মকান্ডের/কর্ম বিস্তৃতির সুযোগ কমে যেতে পারে৷
সহায়ক সেবা বিষয়ক
৭.৪ ধারায় “বৃদ্ধ” শব্দটি বাদ দেয়ায় বৃদ্ধ ও অসহায় নারীদের সেবা প্রাপ্তির সুযোগ কমে যেতে পারে৷ ৮ ধারায় – রাজনীতিতে নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণের তাগিদ সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে নারী সংগঠনসহ বেসরকারী প্রতিষ্ঠানসমূহকে প্রচার অভিযান গ্রহণ করার জন্য “উদ্বুদ্ধ কর” এই লাইনটি পুরো তুলে দেওয়ায় বেসরকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের ভূমিকার অবমূল্যায়ন করা হয়েছে৷ এর ফলে নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণের বিষয়টি হ্রাস পেতে পারে৷
উল্লেখিত ধারায় “জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসনে প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য উদ্যোগ নেয়া” পরিবর্তন করে সংরক্ষিত আসন বৃদ্ধিসহ অন্যান্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করার নীতি সংযুক্ত করা হয়েছে৷ এর ফলে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের পথ রুদ্ধ হয়ে যেতে পারে৷ বিষয়টি বর্তমানে সর্বোচ্চ আদালতের এখতিয়ারভুক্ত৷
এই একই ধারায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের সর্বোচ্চ স্তর মন্ত্রী পরিষদে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী নিয়োগের সুনির্দিষ্ট বিধান বাদ দিয়ে “সর্বস্তর” শব্দটি যোগ করায় বিষয়টিকে সাধারণীকরণ করা হয়েছে৷
ঌ ধারায় বাংলাদেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপদে (দূতাবাস, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন, পরিকল্পনা কমিশন, বিচার বিভাগ ইত্যাদি) নারীদের নিয়োগের বিষয়টি বাদ দেওয়া হয়েছে৷ ফলে উচ্চপর্যায়ে নারীর ব্যাপক অংশগ্রহণ অবশ্যই বাধাগ্রস্ত হবে৷
.একই ধারায় জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের সুপারিশ অনুসারে সরকারের নীতি নির্ধারণী পদসহ সিদ্ধান্ত গ্রহনের সব স্তরে নারীর সম ও পূর্ন অংশগ্রহন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে শতকরা ৩০ ভাগ পদে নারীর নিয়োগের উদ্দেশ্যে সর্বাত্মক উদ্যোগ গ্রহন করা বিষয়টির সংশোধনীতে “সম ও পূর্ন অংশগ্রহন” শব্দের পরিবর্তে “অধিকতর অংশগ্রহন” এবং “শতকরা ৩০ ভাগ”- এর স্থলে বর্তমানে প্রচলিত কোটা পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে উদ্যোগ গ্রহন করা শব্দগুলো যোগ করা হয়েছে৷ এতে নারীর ক্ষমতায়নের পথ বাধাগ্রস্ত হবে৷
.ধারা ১২ তে কৃষি, মত্‌স, গবাদিপশু পালন ও বনায়নে নারীকে উত্‌সাহিত ও সমান সুযোগ দেওয়া এ বিষয়টিতে “সমান সুযোগ” এর পরিবর্তে “অগ্রাধিকার” শব্দটি উল্লেখ করা হয়েছে৷ এই সংশোধনের সুদূরপ্রসারী ফল ভোগ করতে হবে পুরো নারী সমাজকে৷ জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতিমালায় উল্লেখিত এই ধরণের অসঙ্গতি দুর করে নারীর প্রকৃত ক্ষমতায়ন ও সম সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে এমন নীতিমালা প্রণয়ন এবং বর্তমান নীতিমালায় উল্লেখিত অসঙ্গতিতে পুরো নারী সমাজ তীব্র প্রতিবাদ করছে এবং তা দুর করার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবী জানাচ্ছে৷

© 2005 All rights reserved D.NET Bangladesh