Select Page

০৬ অক্টোবর, ২০২৩ তারিখে রাজধানী ঢাকার আদাবরে অবস্থিত পদক্ষেপ মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্রের অডিটরিয়ামে ‘বিকশিত নারী নেটওয়ার্ক’-এর কেন্দ্রীয় কার্যনিবাহী কমিটি গঠনের লক্ষ্যে জাতীয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ও গ্লোবাল ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. বদিউল আলম মজুমদার, দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-এর পরিচালক (কর্মসূচি) ও বিকশিত নারী নেটওয়ার্ক-এর সম্পাদক নাছিমা আক্তার জলি, বিকশিত নারী নেটওয়ার্ক-এর সভাপতি অ্যাডভোকেট রাশিদা আক্তার-সহ বিদ্যমান কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির ১১ জন সদস্য, জেলা কমিটি প্রতিনিধি হিসেবে ৪৬ জন, উপজেলা কমিটির প্রতিনিধি হিসেবে ০২ জন নারীনেত্রী উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার দিলীপ কুমার সরকার।

 

উদ্বোধনী অধিবেশন

জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। ২০২১ সালের ১৮ডিসেম্বরের পর থেকে বিকশিত নারী নেটওয়ার্কের সারাদেশের নারীনেত্রী এবং নারীনেত্রীদের পরিবারের মধ্যে যাঁরা মৃত্যুবরণ করেছেন, তাঁদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায় এক মিনিট নিরবতা পালন করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়। এরপর উপস্থিত অংশগ্রহণকারীগণ নিজ নিজ পরিচয়ের মাধ্যমে তাদের বর্তমান অবস্থান তুলে ধরেন।

নেটওয়ার্কের সভাপতি অ্যাডভোকেট রাশিদা আক্তার উপস্থিত সম্মানিত সদস্যবৃন্দকে শুভেচ্ছা জানিয়ে সভার কার্যক্রম শুরু করেন। তিনি বলেন, ‘০৭ ডিসেম্বর ২০১৯ থেকে ০৬ ডিসেম্বর ২০২২ – এই তিন বছর বর্তমান কমিটি দায়িত্ব পালন করেছে। এই কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পরপর করোনা মহামারি শুরু হয়। করোনা মহামারির সময় কমিটির সদস্যগণ নিজ নিজ এলাকার মানুষের উন্নয়নে কাজ করেছেন। আমরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করেছি। করোনা মহামারির সময়ে কার্যনির্বাহী কমিটি সভা, জাতীয় কমিটি সভা এবং ১৮ ডিসেম্বর ২০২১ তারিখে নেটওয়ার্কের সপ্তম জাতীয় সম্মেলন অনলাইনে অনুষ্ঠিত হয়। অনেক সীমাবদ্ধতার মাঝেও কার্যনির্বাহী কমিটির একটি সভা সরাসরি অনুষ্ঠিত হয়েছে।’ আগামীতে নতুন কমিটি বিকশিত নারী নেটওয়ার্ক ও নেটওয়ার্কের সদস্যদের অগ্রগতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ  ভূমিকা রাখবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ও গ্লোবাল ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. বদিউল আলম মজুমদার তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘আপনারা নারীনেত্রীরা হলেন আমাদের প্রাণশক্তি এবং দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-এর অন্যতম শ্রেষ্ঠ স্বেচ্ছাব্রতী। আমি বিশ্বাস করি, বিকশিত নারী নেটওয়ার্কের প্রায় দশ হাজার নারীনেত্রী ও দি হাঙ্গার প্রজেক্ট এর অন্যান্য সকল স্বেচ্ছাব্রতী একত্রিত হয়ে কাজ করলে দেশের বিরাট ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটবে। তৃণমূলে আপনারা যদি আরও সক্রিয় হন, তাহলে আমরা কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারবো। আমি মনে করি, দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণের পরিমাণ বাড়াতে হবে এবং নিজেদেরকে আয় বৃদ্ধিমূলক কাজে যুক্ত করতে হবে। তাছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি-বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করতে হবে।’তিনি বিকশিত নারী নেটওয়ার্কের জেলা পর্যায়ের প্রতিনিধিবৃন্দের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধিসহ অন্যান্য অভিজ্ঞতাকে শেয়ার করার জন্য (চিঠি পাঠানোর ঠিকানা, মোবাইল নম্বর, ই-মেইল ঠিকানা এবং ফেসবুক আইডি, হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর আপডেট করে দেওয়ার জন্য) উপস্থিত সকলের প্রতি আহ্বান জানান। উপস্থিত সকলকে (০৭ অক্টোবর ২০২৩) অষ্টম জাতীয় সম্মেলন সুষ্ঠু এবং সুশৃঙ্খলভাবে আয়োজনের জন্য নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

 

কর্ম অধিবেশন

সাংগঠনিক প্রতিবেদন উপস্থাপন: নাছিমা আক্তার জলি সংগঠনের (জানুয়ারি ২০২২-জুন ২০২৩) প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। সাংগঠনিক প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর অংশগ্রহণকারীগণ বলেন যে, প্রতিবেদনটিতে ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়িত কার্যক্রমের তথ্য উপস্থাপিত হয়েছে, তবে মাঠ পর্যায়ে তাদের অনেকগুলো কাজের অগ্রগতি রয়েছে যেগুলো ডকুমেন্টেশন করার জন্যে তাদেরকে আরও উদ্যোগী ভ‚মিকা নিতে হবে। এজন্য নারীনেত্রীরা বলেন, জেলা, উপজেলা পর্যায়ে নারীনেত্রীদের সঙ্গে বছরে নূন্যতম ৩/৪ বার সমন্বয় সভার মধ্য দিয়ে নারীনেত্রীগণ আরও সক্রিয় হবেন। অংশগ্রহণকারীগণ প্রতিবেদনের ব্যাপারে মতামত প্রদান করেন। তিনি বলেন, বাজেট সীমাবদ্ধতার কারণে মাঠ পর্যায়ে অনেকগুলো কাজ করা যায়নি। আগামীতে আরও কিছু কাজ করতে চেষ্টা করব। উপস্থিত নারীনেত্রীদের উদ্দেশ্যে নাছিমা আক্তার জলি বলেন, আপনারা যে যে অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত আছেন, আপনাদের অর্জনগুলো শেয়ার করবেন, তাহলে এই অর্জনগুলো আমাদের প্রতিবেদনে যুক্ত হবে। তাছাড়া নারীনেত্রীদের স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন কমিটিতে যুক্ত হওয়ার জন্য আহ্বান জানান। সভাপতি অ্যাডভোকেট রাশিদা আক্তার সকলকে ধন্যবাদ এবং বিকশিত নারী নেটওয়ার্কের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে কমিটির কমিটি বিলুপ্তি ঘোষণা করে এই অধিবেশন সমাপ্ত করেন।

 

কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন

সাবজেক্ট কমিটি গঠন: বিকশিত নারী নেটওয়ার্কের কেন্দ্রীয কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন ২০২৩-২০২৬ স¤পন্ন করার জন্য উপস্থিত সকলের সম্মতিক্রমে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে থেকে ৩ সদস্যবিশিষ্ট একটি সাবজেক্ট কমিটি গঠনের সিন্ধান্ত হয়। সাবজেক্ট কমিটির প্রধান হিসেরে অ্যাডভোকেট রাশিদা আক্তার, সভাপতি, বিকশিত নারী নেটওয়ার্ক, ঢাকা অঞ্চল এবং আরও দু’জন সদস্যের নাম সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। সদস্যগণ হলেন:

১. অধ্যাপক ফিরোজা বুলবুল, সভাপতি, যশোর জেলা কমিটি, ঝিনাইদহ অঞ্চল;

২. সৈয়দা আরমিনা আক্তার, সভাপতি, মৌলভীবাজার জেলা কমিটি, সিলেট অঞ্চল।

 

কমিটি গঠন প্রক্রিয়া: সাবজেক্ট কমিটির প্রধান অ্যাডভোকেট রাশিদা আক্তার উপস্থিত সকলের উদ্দ্যেশে বলেন, আপনাদের সহযোগিতায় অর্পিত দায়িত্ব সঠিক উপায়ে গণতান্ত্রিকভাবে যেন আমরা পালন করতে পারি। তিনি কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন বিষয়ে যথাযথভাবে পরিচালনা করার জন্য কিছু দিক নির্দেশনা প্রদান করেন। তা হলো:

১.১১ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কার্যনিবাহী কমিটি গঠন করা হবে।

২.১০টি অঞ্চলের প্রতিনিধিদের অঞ্চলভিত্তিক আলোচনার মাধ্যমে গণতান্ত্রিকভাবে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির মনোনীত একজন আঞ্চলিক প্রতিনিধি নির্বাচন করা।

৩.প্রতি অঞ্চল থেকে একজন করে ১০ অঞ্চলের দশজন এবং বিকশিত নারী নেটওয়ার্কের সচিবালয় থেকে একজন।

৪.পদাধিকার বলে নারীর ক্ষমতায়ন ইউনিটের প্রধান স¤পাদকের দায়িত্ব পালন করবেন।

৫.প্রতি অঞ্চলের মনোনীত একজন করে ১০ অঞ্চলের ১০ জন এবং সাবজেক্ট কমিটির প্রধানসহ তিনজন মোট ১৩ জন ছোট সভায় গণতান্ত্রিক উপায়ে কার্যনিবাহী কমিটির পদ বণ্টন করা।

৬.কার্যনিবাহী কমিটির পদ বণ্টনের ক্ষেত্রে প্রার্থীর নাম একজন প্রস্তাব করবেন এবং বাকিরা সমর্থন করবেন;

৭.একই পদে একাধিক ব্যক্তি প্রার্থী হলে প্রথম পর্যায়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সমঝোতায় আসা না হলে সরাসরি বা গোপন ভোটে নির্বাচন করা।

 

অঞ্চলভিত্তিক কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচন: প্রত্যেক অঞ্চল নিজ নিজ জেলা প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে একজন প্রতিনিধি কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে নির্বাচন করা হয়। একই প্রক্রিয়ায় ১০ অঞ্চল থেকে দশজন সদস্য নির্বাচন হয়। অঞ্চলভিত্তিক নির্বাচিত সদস্যগণ হলেন:

১.            আফরোজা ইসলাম মিষ্টি, ঝিনাইদহ অঞ্চল

২.           আনোয়ারা রাজ্জাক, বরিশাল অঞ্চল

৩.           ক্যামেলিয়া চৌধুরী, ঢাকা অঞ্চল

৪.           লক্ষী সরকার, খুলনা অঞ্চল

৫.           জাহান পান্না, রাজশাহী অঞ্চল

৬.           শাহানা হক, কুমিল্লা অঞ্চল

৭.           সামসি আরা কলি, রংপুর অঞ্চল

৮.           হেলেনাজ তাহেরা, চট্টগ্রাম অঞ্চল

৯.           হেনা বেগম, সিলেট অঞ্চল

১০.         হাসিনা হায়দার চামেলী, ময়মনসিংহ অঞ্চল।

 

কার্যনির্বাহী কমিটির পদ বণ্টন: ১০ অঞ্চল থেকে দশজন এবং বিকশিত নারী নেটওয়ার্ক-এর সচিবালয় থেকে একজন-সহ মোট ১১ জন সদস্য নিয়ে আলোচনার মধ্য দিয়ে যেভাবে পদ বণ্টিত হয়:

১. সভাপতি পদে ৫ জন প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করা হয়:

– আফরোজা ইসলাম মিষ্টি, ঝিনাইদহ অঞ্চল

– ক্যামেলিয়া চৌধুরী, ঢাকা অঞ্চল

– লক্ষী সরকার, খুলনা অঞ্চল

– শাহানা হক, কুমিল্লা অঞ্চল

– জাহান পান্না, রাজশাহী অঞ্চল।

দশজন মনোনীত সদস্যের গোপন ভোটের মাধ্যমে সভাপতি নির্বাচিত হন জাহান পান্না, রাজশাহী অঞ্চল।

২.সহ-সভাপতি পদে পাঁচজন প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করা হয়:

– লক্ষী সরকার, খুলনা অঞ্চল

– হেলেনাজ তাহেরা, চট্টগ্রাম অঞ্চল

– আফরোজা ইসলাম মিষ্টি, ঝিনাইদহ অঞ্চল

– আনোয়ারা রাজ্জাক, বরিশাল অঞ্চল

– ক্যামেলিয়া চৌধুরী, ঢাকা অঞ্চল।

দশজন মনোনীত সদস্যের গোপন ভোটের মাধ্যমে সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন হেলেনাজ তাহেরা, চট্টগ্রাম অঞ্চল।

 

৩. সম্পাদক: পদাধিকার বলে (দি হাঙ্গার প্রজেক্ট) নারীর ক্ষমতায়ন ইউনিটের প্রধান নাছিমা আক্তার জলি।

 

৪.সহ- সম্পাদক পদে তিনজন প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করা হয়:

– ক্যামেলিয়া চৌধুরী, ঢাকা অঞ্চল

– শাহানা হক, কুমিল্লা অঞ্চল

– আফরোজা ইসলাম মিষ্টি, ঝিনাইদহ অঞ্চল।

দশজন মনোনীত সদস্যের গোপন ভোটের মাধ্যমে সহ-স¤পাদক নির্বাচিত হন শাহানা হক, কুমিল্লা অঞ্চল।

 

৫.কোষাধ্যক্ষ পদে প্রার্থীর নাম সামসিয়ারা কলি, রংপুর, রংপুর অঞ্চল প্রস্তাব করেন মনোনীত সদস্য হেলেনাজ তাহেরা, প্রস্তাব সমর্থন করেন মনোনীত সদস্য শাহানা হক, কুমিল্লা অঞ্চল, সমর্থন করেন বাকি ৮ অঞ্চলের সদস্যগণও।

 

কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাহী সদস্য হিসেবে ৬টি অঞ্চলের ছয়জন হলেন:

  • ক্যামেলিয়া চৌধুরী, ঢাকা, ঢাকা অঞ্চল
  • আফরোজা ইসলাম মিষ্টি, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ অঞ্চল
  • আনোয়ারা রাজ্জাক, মাদারীপুর, বরিশাল অঞ্চল
  • লক্ষী সরকার, গোপালগঞ্জ, খুলনা অঞ্চল
  • হেনা বেগম, সিলেট, সিলেট অঞ্চল
  • হাসিনা হায়দার চামেলী, কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ অঞ্চল।

 

সভায় গৃহীত অংশগ্রহণকারীদের প্রস্তাব/সুপারিশ:

১.            উপজেলা ও জেলা পর্যায় নারীনেত্রীর সংখ্যা বাড়ানো;

২.           ৩-৪ মাস অন্তর কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সভা আয়োজন করা;

৩.           বছরে একবার জাতীয় কমিটির সভার আয়োজন করা;

৪.           প্রত্যেক অঞ্চলে নারী নেতৃত্ব বিকাশ বিষয়ক ফাউন্ডেশন কোর্স করা।

 

সভায় নেটওয়ার্ক সম্পর্কিত যেসকল প্রস্তাব করা হয়:

  • কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটিসহ সকল কমিটির মেয়াদ দুই বছরের পরিবর্তে তিন বছর করা;
  • পুরাতন কমিটি নেটওয়ার্কের অষ্টম জাতীয় সম্মেলন-২০২৩ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবে এবং অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সম্মেলনে পুরাতন কমিটি নতুন কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করবে;
  •  বিকশিত নারী নেটওয়ার্ক কার্যক্রম পরিচালনার নীতিমালা পুনরায় পর্যালোচনা করা।

 

সমাপনী: উপস্থিত অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ২/১জন অনুভুতি প্রকাশ করে বলেন, নব-গঠিত কমিটির সদস্যের নেতৃত্বে নতুন মাত্রায় বিকশিত নারী নেটওয়ার্ক-এর কার্যক্রম আরও প্রসারিত হবে।

নব-নির্বাচিত কমিটির সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে নারীনেত্রী শাহানাজ পান্না উপস্থিত সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বলেন, ‘আপনাদের সকলের পরামর্শ ও সহযোগিতা একান্তভাবে কামনা করছি।‘ তিনি সম্মিলিত প্রচেষ্টায়য় বিকশিত নারী নেটওয়ার্কের কার্যক্রম গতিশীল করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

নব-নির্বাচিত কমিটির সম্পাদক নাছিমা আক্তার জলি কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির নতুন এবং পুরাতন সকল সদস্যদেরকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, যাঁরা নির্বাচিত কমিটিতে সরাসরি আসেননি তাঁদের জন্য আগামীতে সে সুযোগ রয়েছে। আমি অনুরোধ করবো, আমরা সবাই যদি একসঙ্গে কাজ করি, তাহলেই ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটবে। আমাদের সামনে যেসব চ্যালেঞ্জ রয়েছে তা নতুন কমিটির নেতৃত্বে পরিবর্তন করা হবে।’তিনি উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে জাতীয় সম্মেলন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করেন এবং সফলভাবে সভাটি আয়োজনের জন্য সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

সভাপতি অ্যাডভোকেট রাশিদা আক্তার নব-নির্বাচিত কমিটিকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, নেতৃত্ব পরিবর্তন হলে নেটওয়ার্কের কাজের আরও বিস্তার ঘটে। তাই আমরা সকলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করব। উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন।

দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-এর বিকশিত নারী নেটওয়ার্ক কার্যক্রমের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী শাহীনা আক্তার নব-নির্বাচিত কমিটিকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। উপস্থিত সকল নারীনেত্রীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, ‘আপনাদের উপস্থিতি ও স্বতঃস্ফ‚র্ত অংশগ্রহণের ফলে সভাটি সফল ও কার্যকর হয়েছে। আমি মনে করি, নেটওয়ার্কের সকল সদস্য একটি পরিবার। এই পরিবারের কার্যক্রম সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে আমরা সকলের সহযোগিতা একান্তভাবে কামনা করি।’

দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ও গ্লোবাল ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. বদিউল আলম মজুমদার নব-নির্বাচিত কমিটিকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়ে  বলেন, ‘আপনারা সবাই খুবই গুরুত্বপূর্ণ, সবাই নেতা। আমি আপনাদের নিয়ে সম্মানিত বোধ করি। সবাই ভালো থাকবেন, ভবিষ্যতে নিশ্চয়ই আপনারা আরও বড় কিছু করবেন। আমি বিশ্বাস করি, আপনাদের এই কাজের মাধ্যমেই তৃণমূলের নারীদের অবস্থা ও অবস্থানের ইতিবাচক পরিবর্তন সাধিত হবে।’

 

নব-গঠিত বিকশিত নারী নেটওয়ার্কের কেন্দ্রীয় কার্যনিবাহী কমিটির তালিকা:

১. সভাপতি, জাহান পান্না, রাজশাহী, রাজশাহী অঞ্চল

২. সহ-সভাপতি, হেলেনাজ তাহেরা, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম অঞ্চল

৩. সম্পাদক, নাছিমা আক্তার জলি, সচিবালয়, দি হাঙ্গার প্রজেক্ট

৪. সহ-সম্পাদক, শাহানা হক, কুমিল্লা অঞ্চল

৫. কোষাধ্যক্ষ, সামসিয়ারা কলি, রংপুর, রংপুর অঞ্চল

 

নির্বাহী সদস্য ছয়জন:

  • আফরোজা ইসলাম মিষ্টি, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ অঞ্চল
  • আনোয়ারা রাজ্জাক, মাদারীপুর, বরিশাল অঞ্চল
  • ক্যামেলিয়া চৌধুরী, ঢাকা, ঢাকা অঞ্চল
  • লক্ষী সরকার, গোপালগঞ্জ, খুলনা অঞ্চল
  • হেনা বেগম, সিলেট, সিলেট অঞ্চল
  • হাসিনা হায়দার চামেলী, কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ অঞ্চল।

 

সমবেত সংগীতের মধ্য দিয়ে বিকশিত নারী নেটওয়ার্কের কেন্দ্রীয় কার্যনিবাহী কমিটি গঠনের লক্ষ্যে জাতীয় কমিটি সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।