ফাউন্ডেশন কোর্স

তৃনমূলের নারীদের সামর্থ্য বিকাশ:
নারীনেত্রীদের আত্মশক্তি ও সামর্থ্য বিকাশ এবং তাদের সংগঠিত ও অনুপ্রাণিত করতে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে (১) ‘নারী নেতৃত্ব বিকাশ’ শীর্ষক ফাউন্ডেশন কোর্স, (২) বিষয়ভিত্তিক মাসিক প্রশিক্ষণ ও ফলোআপ কার্যক্রম এবং (৩) নেত্রীদের নিজেদের মধ্যে নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে অব্যাহতভাবে সহায়তা প্রদান করে আসছে।
নারী নেতৃত্ব বিকাশ বিষয়ক ফাউন্ডেশন কোর্স:
নারী নেতৃত্ব বিকাশ কার্যক্রম শুরু হয় তিনদিনব্যাপি ফাউন্ডেশন কোর্সের মাধ্যমে। তৃণমূলের সম্ভাবনাময়ী নারীদের চিহ্নিত করে তাদের জন্য নারী নেতৃত্ব বিকাশ বিষয়ক ফাউন্ডেশন কোর্সের আয়োজন করা হয়।
ফাউন্ডেশন কোর্স-এর উদ্দেশ্য:
জেণ্ডার সমতা অর্জনের মাধ্যমে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত আত্ননির্ভরশীল বাংলাদেশ সৃষ্টিতে নারী নেতৃত্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যে একদল নারীকে সংগঠিত, ক্ষমতায়িত ও অনুপ্রাণিত করা;

কাঙ্ক্ষিত ফলাফল:
এই প্রশিক্ষণ শেষে প্রত্যেক অংশগ্রহণকারী:
–   ‘জেণ্ডার’ ধারণা’, ‘জেণ্ডার ভূমিকা’ ও ‘জেন্ডার বৈষম্য’ সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা অর্জন করবেন  এবং  ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করতে সমর্থ হবেন;

–   বাংলাদেশে নারীদের সমস্যা, লিঙ্গীয় বৈষম্যের আর্থিক ও সামাজিক খেসারতের বাস্তব চিত্র উপলদ্ধি করতে পারবেন এবং এ চিত্র বদলাতে নারী ইস্যুকে অগ্রাধিকার দিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে অনুপ্রাণিত হবেন;

–   নারীর অধ:স্তনতা ও অনুন্নয়ন যে বিদ্যমান পুরুষতান্ত্রিক কাঠামো ও মূল্যবোধ দ্বারা সৃষ্ট তা উপলদ্ধি করতে পারবেন এবং নারীর ক্ষমতায়নের প্রশ্নে পুরুষতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও মানসিকতাকে চ্যালেঞ্জ করবেন;

–   নারীর সাংবিধানিক ও মানবাধিকার সম্পর্কে ধারণা অর্জন ও নারী উন্নয়নে সরকার গৃহীত উদ্যোগ পর্যালোচনা করতে পারবেন এবং সরকারি সুযোগ ও সেবায় নারীর অভিগম্যতা সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখবেন;

–   অংশগ্রহণকারী একজন স্বয়ংক্রিয় স্বেচ্ছাব্রতী নেতা হয়ে উঠবেন যিনি স্থানীয় পর্যায়ে নতুন নারী নেতৃত্ব সৃষ্টি করবেন। পাশাপাশি জেণ্ডার বৈষম্য দূরীকরণের লক্ষ্যে সরকারি-বেসরকারি সমমনা প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির সমন্বয়ে ঐক্য মোর্চা গড়ে তুলতে উদ্যোগী হবেন;

–   ‘সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যসমূহ’ অর্জনে বিশেষ করে নারী ও শিশুদের উন্নয়নে এলাকার নারীদেরকে সাথে নিয়ে সামাজিক ও অর্থনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করবেন;

–   প্রত্যেক অংশগ্রহণকারী নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে তার এলাকার দায়িত্ব গ্রহণ করবেন এবং প্রত্যাশার আলোকে মাসিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করবেন।

ফাউন্ডেশন কোর্স-এর মেয়াদকাল: ৩ দিন
ফাউন্ডেশন কোর্স-এর অংশগ্রহণকারী নির্বাচন:
অংশগ্রহণকারী নির্বাচনের শর্তসমূহ:
০১.    নারী হতে হবে;
০২.    উজ্জীবক হতে হবে;
০৩.    সক্রিয় উজ্জীবক হিসাবে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে;
০৪.    স্বেচ্ছা শ্রমের ভিত্তিতে কাজ করার মানসিকতা সম্পন্ন হতে হবে;
০৫.    পরিবর্তনের বলিষ্ট কর্মী হওয়ার আগ্রহ থাকতে হবে;
০৬.    নূন্যতম শিক্ষাগত যোগ্যতা এইচএসসি হতে হবে, তবে ইতোমধ্যে পরীক্ষিত উজ্জীবকদের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিলযোগ্য;
০৭.    নেটওয়ার্ক-এর কাজে সময় দেয়ার সুযোগ ও মানসিকতা থাকতে হবে;
০৮.    বয়স হতে হবে ২৫ বছরের  উর্ধ্বে;
০৯.    সমাজের উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে আত্মনিবেদিত;
১০.    পারিবারিক ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতা বুদ্ধিমত্তার সাথে কাটিয়ে উঠার মানসিকতা থাকতে হবে;
১১.    নারী হিসাবে অগ্রসর হওয়ার ক্ষেত্রে সমাজে বিরাজমান সমস্যা মোকাবেলা করার মতো মনোবল থাকতে হবে এবং আপোসহীন সাহসী হতে হবে;
১২.    সুবিধা বঞ্চিত নারীদের সংগঠিত করার এবং অন্যের মতামতকে গুরুত্ব দেয়ার মানসিকতা থাকতে হবে;
১৩.    আত্মপ্রত্যয়ী, স্বার্থ ত্যাগী, সৃজনশীল ও ধৈর্যশীল হতে হবে;
১৪.    পুরুষের সাথে স্বচ্ছন্দে কাজ করার মানসিকতা থাকতে হবে।

ফাউন্ডেশন কোর্সে যে বিষয়গুলো গভীরভাবে বিশ্লেষণ ও আলোচনা করা হয়-
–   জেন্ডার ধারণা ও বৈশিষ্ট্য;
–   সেক্স ও জেন্ডারের বৈশিষ্ট্যগত পার্থক্য, জেন্ডার ভূমিকা;
–   নারীত্ব ও পৌরুষত্ব, নারী পুরুষের বিভাজন, নারীর অবস্থা ও অবস্থান;
–   বাংলাদেশের নারী চিত্র, নারী নির্যাতন;
–   বাংলাদেশে জেন্ডার বৈষম্য, এর খেসারত ও কারণ;
–   পুরুষতন্ত্রের স্বরূপ ও সমাজে তা কিভাবে উৎপাদিত ও পূণ:উৎপাদিত হয়;
–   নারীর ক্ষমতায়নের পথ ও উপায় অনুসন্ধান
–   নারী উন্নয়ন: আন্তর্জাতিক ও জাতীয় উদ্যোগ
–    নারী উন্নয়নে বৈশ্বিক পর্যায়ের ভূমিকা
–    সিডও সনদ, সনদের গুরুত্ব এবং
–    নারী নেতৃত্ব বিকাশের প্রয়োজনীয়তা ও করণীয় নির্ধারণ ইত্যাদি।

নেটওয়ার্ক শুরুর সময় থেকে এ পর্যন্ত (২০০৬-২০১২) মোট ১২৩টি ফাউন্ডেশন কোর্স অনুষ্ঠিত হয়। তাতে তৃণমূলের ৫,৭২২ জন বলিষ্ঠ নারী কার্যক্রমের সাথে সমপৃক্ত হন। ফাউন্ডেশন কোর্সে অংশগ্রহণকারী নির্বাচনের ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পর্যায়ের নারীদের বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয়া হয়। ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে ২জন করে মোট ১৮ জন তৃণমূলের নারীকে একটি ইউনিয়ন থেকে নির্বাচন করা হয়। ইউনিয়ন পর্যায় ছাড়াও জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ের নারী নেত্রীরাও নেটওয়ার্ক-এর সাথে সম্পৃক্ত হচ্ছে।
প্রশিক্ষণ শেষে নারীনেত্রী হিসাবে প্রত্যেকে একটি ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেন। ঘোষণাপত্র স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে তারা একটি জেন্ডার সমতার সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।