বিষয়ভিত্তিক ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ ও ফলোআপ

বিষয়ভিত্তিক ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ ও ফলোআপ:

বস্তুত সমাজের একজন অগ্রণী নারী হিসাবে কাজ করতে গিয়ে একজন নারীনেত্রীর বিভিন্ন বিষয়ে জানা-বোঝার প্রয়োজন হয়। ফলে তার ধারণা, দৃষ্টিভঙ্গি, পর্যালোচনা, পর্যবেক্ষণ নিয়মিত ধারালো রাখতে হয়। এই কাজটি করা হয় ফাউন্ডেশন কোর্স পরবর্তীকালে বিষয়ভিত্তিক নিয়মিত ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ ও ফলোআপ কর্মসূচির মাধ্যমে। যা তাদের দক্ষ ও যোগ্য করে তোলে। তাদের নেতৃত্বকে শাণিত করে।
ফলোআপ প্রশিক্ষণের বিষয়সমূহ:
– আন্তর্জাতিক নারী  দিবসের উদ্ভব ও বিকাশের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
– আইন ও অধিকার
– নারী আন্দোলন
– নারীর রাজনৈতিক অভ্যূদয়
– সংগঠন
– নেতৃত্ব
– এডভোকেসি
– সুশাসন
– স্থানীয় সরকার
– শিশু অধিকার
– সিডও সনদ
– এমডিজি
– মূলধারায় নারী
– অভিন্ন পারিবারিক আইনের  প্রয়োজীয়তা
– নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন ও কৌশল
– জেন্ডার এবং সুশাসন
– জেন্ডার এবং বিশ্বায়ন
– অধিকার ভিত্তিক উন্নয়ন
– জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি
– শরীয়াহ্‌ আইন এবং নারীর মানবাধিকার
– নারী নির্যাতন: ধারনা,ধরণ,প্রতিকার ও আমাদের করণীয়
– তথ্য অধিকার আইন
– পরিবেশ ও নারী
– উত্যক্ততা বা যৌন হয়রানি
– মাদক ও নারী
প্রশিক্ষণে বিষয়বস্তুর সাথে প্রাসঙ্গিক আলোচনাপত্র ও তথ্য উপাত্ত সরবরাহ করা হয়। ২০০৬ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত মোট ২৫টি ইস্যূতে ১৫৮৪টি বিষয়ভিত্তিক ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।
নারীনেত্রীরা তাদের নিজ সমাজের জেন্ডার বৈষম্য দূরীকরণসহ আর্থসামাজিক অবস্থা পরিবর্তনের জন্য অব্যাহতভাবে কাজ করেন।

– বিভিন্ন রকম উদ্যোগ নেন,
– সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলেন,
– নিজ সমাজের অনেক জটিল ও কঠিন সামাজিক সমস্যার সমাধান করেন,
– বহুরকম চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেন।

বৈচিত্রপূর্ণ এসব কাজের মধ্য দিয়ে নারীনেত্রীরা বহুবিধ অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। ফলোআপ প্রশিক্ষণে নারীনেত্রীরা পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন। একজনের অভিজ্ঞতা আরেকজন, এক এলাকার অভিজ্ঞতা আরেক এলাকায় হয়তো হুবহু ব্যবহার করা যায় না। কিন্তু পরসপরের কাছ থেকে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা তারা নিজেদের মতো করে কাজে লাগাতে পারেন। ফলোআপ প্রশিক্ষণে তাদের অর্জিত দৃষ্টান্ত মূলক সফলতাগুলো তুলে ধরেন। নারীনেত্রীরা তাদের অর্জিত অভিজ্ঞতা, সফলতা ও চ্যালেঞ্জ এর ভিত্তিতে প্রতিটি ফলোআপ প্রশিক্ষণে পরবর্তী সময়ের জন্য একটি কর্মপরিকল্পনা করেন।
একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি ও সিলেবাস অনুযায়ী ফলোআপ প্রশিক্ষণগুলো অনুষ্ঠিত হয়। ফাউন্ডেশন কোর্স পরবর্তী প্রথম বছর প্রতিমাসে একবার, দ্বিতীয় বছর প্রতি দুইমাস অন্তর, তৃতীয় বছর প্রতি চারমাসে একবার, চতুর্থ বছর থেকে প্রতি ছয়মাসে একবার ফলোআপ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। একটি প্রক্রিয়া হিসাবে ফলোআপ প্রশিক্ষণের এই ধারাটি অব্যাহতভাবে চলতে থাকে।

প্রশিক্ষণ শেষে নারীনেত্রীদের মধ্যে নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার জন্য নেটওয়ার্ক কমিটি গঠন করা হয়। নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে নারী নেত্রীরা স্থানীয় পর্যায়ে তাদের জীবনমানের উন্নয়নের জন্য দলগতভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করে থাকে। তাদের মধ্যে সাংগঠনিক দক্ষতা বৃদ্ধি পায়, নারী নির্যাতন প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে, সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় ভূমিকা পালন করে এবং সর্বোপরি অর্থনৈতিকভাবে নারীর মুক্তির পথ সুগম হয়।